রানীশংকৈলে বাউবি পরীক্ষা

শিক্ষকদের ঘুষ দিয়ে নকলের মচ্ছব

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

কারো সামনে বইয়ের ছেঁড়া পাতা, কারো সামনে আস্ত বই খোলা। এসব দেখে উত্তরপত্রে লিখছেন পরীক্ষার্থীরা। ঠাকুরগাঁওয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে চলমান এইচএসসি পর্যায়ের প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় গত শুক্রবার রানীশংকৈলের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন চিত্র দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র বলেছেন, এই কেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক ও কর্মকর্তকে মোটা অঙ্গের ঘুষ দিয়ে চলছে নকলের এই মচ্ছব।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে গত ২৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়। এ বছর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই কেন্দ্রে ৪৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। গত ২৬ এপ্রিল বাংলা পরীক্ষার সময় বেলা ১১টার দিকে রানীশংকৈল বিএম কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার্থীরা অবাধে বইয়ের পাতা বেঞ্চের ওপরে রেখে তা দেখে উত্তরপত্রে উত্তর লিখছেন। আবার কেউ পুরো বইটাই বেঞ্চের ওপর রেখে উত্তরপত্রে উত্তর লিখছেন। কোথাও আবার একজন পরীক্ষার্থীর সামনে থাকা বইয়ের পাতা দেখে কয়েকজন পরীক্ষা নিচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তা প্রতিরোধে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। পরবর্তী সময়ে গত ১০ মে শুক্রবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে একই দৃশ্যের দেখা মেলে।

পরীক্ষার কেন্দ্রে এই প্রতিবেদককে ঢুকতে দেখে কেন্দ্রে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক এগিয়ে আসেন। সে সময় কেন্দ্র সচিব মো. হাসান আলী নবাব বলেন, আসুন অফিস কক্ষে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। তাদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, যাদের কোনো উপায় নেই তারাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়। শিক্ষা নয়, সনদ হাতে পাওয়াটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এসব কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষকদের কিছুটা ছাড় দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এছাড়াও প্রতি পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম সরেজমিন দেখা যায়, তার সামনেই পরীক্ষার্থীরা দেদার নকল করছে। তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, তাই পরিস্থিতি এখনো বুঝতে পারিনি।

বাউবি এ পরীক্ষায় জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার মতো কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না, কেউ নকল করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরিদা এ ব্যাপারে বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি, তাই এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

উল্লেখ্য, এই রানীশংকৈল বিএম কলেজে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বোর্ড প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও এবারে নকল করার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল হোসেনকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে এ নকল চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

"