প্রাথমিকে শিক্ষকদের উপস্থিতির নির্দেশনা

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক স্কুলে কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ের পুরোটা শিক্ষকদের উপস্থিত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের বিভাগীয় উপপরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব স্বাক্ষরিত এক পরিপত্র বুধবার জারি করে এই নির্দেশ জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

ইন্দু ভূষণ দেব বলেছেন, অনেকসময় থানা বা জেলা শিক্ষা-কর্মকর্তারা, বা ইনস্ট্রাক্টরা বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে অনেক শিক্ষককে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত পাননি। সেই শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নতুন এই নির্দেশনা বলে জানান তিনি।

‘অনেক শিক্ষক দেখা যায় নির্ধারিত সময়ের পুরোটা না থেকে চার-পাঁচ ঘণ্টা থেকে চলে যান। আমাদের তো চার শিফটেরও ক্লাস চলে। কোনো একটা দুটি শিফট শেষ হলে অনেক শিক্ষক চলে যান। এখন আমরা বলেছি, যখন কেনো শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না (পাঠদান থাকবে না) তখন ক্লাস না থাকলেও যেন তারা খাতাপত্র দেখাশোনা করেন, বা লেসন পরিকল্পনা তৈরি করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার। ফলে চারটা করে শিফট রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে শিফট শুরু হয় আর বিকেল ৪টা পর্যন্ত চার শিফটে ক্লাস চলে। আবার কোথাও কোথাও দুটি শিফট। প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস চলে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত থ্রি, ফোর ফাইভ বলে জানান তিনি।

ইন্দু ভূষণ দেব জানান, ‘শিক্ষকদের ওয়ার্কিং আওয়ার (কর্ম-ঘণ্টা) সোয়া সাত ঘণ্টা করে। প্রায়ই শিক্ষকরা একটা শিফট শেষ হলে বাড়ি চলে যান। সে বিষয়টি এখন থেকে যাতে আর না ঘটে সেজন্যই এই নির্দেশনা।

তিনি আরো জানান, ঢাকা বিভাগে যেখানে একাধিক শিফট আছে শুধু সেখানেই নয়, ঢাকার বাইরে যেখানে ৯টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত একটাই শিফট আছে সেখানেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিস্টার দেব বলেন, ‘মিসট্রেসরা বাসায় চলে যান। বলেন ঘরের কাজ-কর্ম থাকে। আবার ঢাকা এলাকার মধ্যে অনেকসময় শিক্ষকরা বলেন, গাড়ি পাইনি, যানজট, কিংবা পারিবারিক বিষয় থাকে।...’

শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ঠেকাতে এই কঠোর অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন তদারকি অনেক বেশি। এই নির্দেশনার পরও নির্ধারিত সময়ে যদি তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় তাহলে সরকারি শৃঙ্খলা বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বেতনও কাটা হতে পারে।

কিশোরগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানজিনা নাজনীন বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এর আগে একই নির্দেশনা সব স্কুলেই দেওয়া হয়েছিল।

আমরা তো সদরে আছি। ভেতরের দিকে (প্রত্যন্ত এলাকা বোঝাতে) অনেকগুলো স্কুল আছে, যেগুলোতে ইন্সপেকশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে ফাঁকিবাজি করেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পরে স্কুল খোলেন আবার ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল বন্ধ করে দেন। থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা গিয়ে শিক্ষকদের পান না। তিনি বলেন, অভিযোগ আছে অনেকে বাসায় চলে যান, কেউ কেউ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িয়ে যান।

পরিস্থিতি কতটা প্রকট?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ক্যাম্পের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সমস্যাটা একসময় খুবই প্রকট ছিল। শিক্ষকদের নির্ধারিত ঘণ্টা ধরে কাজ না করার বিষয়টি যে প্রকট হয়ে উঠেছে তা এই পরিপত্র জারি করা থেকেই বোঝা যায়।

এটা একদিকে যেমন তাদের (শিক্ষকদের) নীতি-নৈতিকতার বিষয়, অন্যদিকে তেমনি শৃঙ্খলার ব্যাপার। অনেকসময় শৃঙ্খলা বিধি তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না, অনেক ক্ষেত্রে তারা এগুলোর তোয়াক্কা করেন না। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা।

‘পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে তাদের সৃজনশীলতাকে উদ্বুদ্ধ করা, খেলাধুলার দিকে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করা শিক্ষকদের দায়িত্বের অংশ।’ তবে রাশেদা কে চৌধূরী আরো বলেন, শুধু ঢালাওভাবে শিক্ষকদের দোষারোপ করে লাভ নেই। অনেক সময় শিক্ষকদের বাড়তি অনেক কাজ করতে হয়। স্কুলের কাজের প্রয়োজনেই তাদের উপজেলা প্রশাসন বা শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে অনেক দেন-দরবারও করতে হয়, বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকদের অনেক সময় সরকারি নানারকম কাজ-কর্মে থাকতে হয়। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন তো আছেই।

তিনি মনে করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে মেয়েরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় অনেক সময় বলা হয়, তারা মাতৃত্ব-কালীন ছুটি বা গৃহস্থালির কাজকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার কাজে সময় কম দেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো গবেষণা নেই।

"