গাজীপুরে কঙ্কাল চুরি ঠেকাতে কবর পাহারা

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

বিবিসি

গাজীপুরে প্রায়ই কবর থেকে কঙ্কাল চুরি ঘটনার খবর বের হয়। সম্প্রতি এ জেলার একটি গ্রামেই কিছুদিনের মধ্যে ঘটে গেছে অনেকগুলো কবর চুরির ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন গ্রামের অরক্ষিত কবর থেকে কঙ্কাল চুরি করে সেগুলো ঢাকায় পাঠায় স্থানীয় একটি চক্র।

সম্প্রতি কঙ্কাল চুরির সময় আটক হন এক ব্যক্তি। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরির পর একেকটি কঙ্কাল থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পান তারা। জেলার শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাভেদুল ইসলাম বলেন, দু-মাস আগে এমন একটি ঘটনার জেরে তারা এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন।

যাকে আটক করেছি, তার কাছ থেকে অনেক তথ্যও আমরা পেয়েছি। কবর থেকে কঙ্কাল চুরির কথা তিনি স্বীকারও করেছেন। এরপর থেকে এ ধরনের ঘটনার খবর আমাদের কাছে আর আসেনি। তবে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিন আগেও নিজমাওনা গ্রামে দুটি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘চুরির ঘটনা জানার পর পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর আমরাও সতর্ক হয়েছি। মেম্বারদের বলা হয়েছে।

ওই এলাকার অধিবাসী মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ বলেন, আমার এক নিকটাত্মীয়ের কবর থেকে লাশ চুরি হয়েছে কিছুদিন আগে। আমার আত্মীয় ঢাকায় দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। পরে এলাকায় এনে কবর দেওয়ার পর সেই কবরেও চুরি হয়েছে। তিনি জানান, এ ধরনের এমন আরো বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন ওই এলাকা থেকেই।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা গ্রামে এক মাসের মধ্যেই সেখানে ৩০টির মতো কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। যদিও শ্রীপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন্নাহার বলছেন, তাদের এখনো বিষয়টি কেউ অবহিত করেননি।

আবদুস সামাদ বলেন, সাধারণত পল্লী এলাকায় কবর বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো আর ইট দিয়ে বাধাই করা হয় না বা পাকা করা হয় না। এরপর দুই থেকে তিন মাস পরে অনেক সময় দেখা যায় মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। অনেকে ভাবে শিয়ালে খুঁড়েছে। কিন্তু গত কিছু দিনে অনেকগুলো কবরে এমন দেখার পর লোকজনের সন্দেহ হয়। ১০ দিন আগে আমার বাড়ির কাছেই এমন একটি কবর পাওয়া গেছে যেখান থেকে কঙ্কাল চুরি হয়েছে।

তিনি জানান, চুরির ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ধরাও হয়েছিল। তার কাছে থেকেই জানা গেছে, কঙ্কাল সংগ্রহ করে তিনি স্থানীয় একটি মাছ ও মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় রাখতেন। পরে সেখান থেকে এগুলো ঢাকায় পাঠানো হতো। গাজীপুরের একজন সাংবাদিক জানান, চুরি হওয়া কঙ্কাল আসলে কয়েক ধাপে বিক্রি হয়।

‘গ্রামে যারা চুরি করেন তারা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় সেগুলো বিক্রি করেন ঢাকায় তাদের লোকজনের কাছে। তারা আবার এগুলো বিক্রি করে আরেকটি চক্রের কাছে। এভাবে মেডিকেল বিশেষ করে ঢাকার একটি নামকরা হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট লোকজনের কাছে পৌঁছায় বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, এ কারণে গ্রামের কবরস্থানগুলোতে এবার পাহারার ব্যবস্থা করেছেন এলাকাবাসী।

আগেও ঘটেছে গাজীপুরের নানা এলাকায় এ ধরনের কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটে। যার বেশির ভাগই থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় না। স্থানীয় একজন সাংবাদিক বলেন, গত তিন বছর ধরেই এসব ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তবে বেশি গ্রাম পর্যায়ে হয় এবং একেবারেই সাধারণ ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেই এগুলো চৌকিদার দফাদারের বাইরে আসে না। জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার একটি গ্রামে গত বছর প্রায় দুই ডজন কঙ্কাল চুরির ঘটনা বের হয়েছিল। আরো কয়েক বছর আগে ২০১২ সালে গাজীপুর পৌর এলাকার একটি কবরস্থান থেকে লাশ ও কঙ্কাল চুরির ঘটনা নিয়ে বেশ শোরগোল হয়েছিল। সেবার মোট ২৩টি কবর থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এরপরেও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত এ ধরনের চুরির খবর পাওয়া গেছে। গত বছরের নভেম্বরেও কালিয়াকৈর কবরস্থান থেকে অন্তত ১১টি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছিল। আর এ বছরের ৩০ মার্চ রাতে মওনা থেকে মুসা নামে এক ব্যক্তিকে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরির সময় আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তার কাছেই আরো অনেক লোকের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও তারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন।

"