বরিশালে ডা. মারুফা হত্যার রহস্য উদঘাটন

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুরে মেডিকেল কর্মকর্তা মারুফা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘাতককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি এম আর মুকুল। গতকাল শনিবার তিনি জানান, পেশাদার চোরের হাতে খুন হন ডা. মারুফা। চোর মহসিনের বর্ণনার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মহসিন একজন পেশাদার চোর। সে ভোলায় ঘরজামাই থাকে। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঘাতক মহসিন ভোলা থেকে বরিশাল এসে রূপাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। রাত আনুমানিক ১টার পরে পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ডা. মারুফার ফ্লাটের পার্শ্ববর্তী বিল্ডিংয়ের ছাদে শাবল নিয়ে অবস্থান নেয়। সেই ছাদ থেকে চুরি করার উদ্দেশ্যে ডা. মারুফার ফ্লাটের বারান্দায় প্রবেশ করে। বারান্দার দরজা খোলা থাকায় সে ফ্লাটে ঢুকে ডা. মারুফার বিছানার পাশে শাবল রেখে চেয়ারের ওপরে থাকা ভেনিটিব্যাগ নিয়ে বারান্দা দিয়ে পাশের বাসার ছাদে চলে যায়। ভেনিটিব্যাগ তল্লাশি করে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চোর মহসিন পুনরায় তার ঘরে প্রবেশ করে আলমারি তল্লাশি করতে শুরু করে। শব্দ পেয়ে ডা. মারুফা জেগে উঠে চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকলে মহসিন তার শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ডা. মারুফার গোঙানি আর রক্ত দেখে মহসিন দ্রুত বারান্দা দিয়ে পাশের বাসার ছাদে চলে যায়। সেখানে নির্মাণাধীন আরেকটি বিল্ডিংয়ে ফজরের আজান পর্যন্ত অবস্থান নেয়। তারপর আজানের সময়ে ওই বিল্ডিং থেকে নেমে লঞ্চে করে ভোলা চলে যায়।

হত্যাকা-ের দীর্ঘ ছয় মাস পরে এসআই ফিরোজ আলম মুন্সী মারুফার ঘাতক মহসিনকে চট্টগামের পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে গত বুধবার আটক করেন। মহসিনের বাড়ি পিরোজপুর জেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামে। প্রসঙ্গত, ডা. মারুফা এয়ারপোর্ট থানাধীন ২নং কাশিপুর ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী জহিরুল হায়দার চৌধুরী ওরফে স্বপন প্রগতি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে সহকারী ব্যবস্থাপক (উন্নয়ন) হিসেবে ঢাকা মিরপুর শাখায় চাকরি করতেন।

 

"