জিন ছাড়ানোর নামে গৃহবধূকে আগুনে পোড়াল ওঝা

প্রকাশ | ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলায় ওঝার অপচিকিৎসায় প্রাণ যাচ্ছে গৃহবধূর। জিন তাড়ানোর নামে এক অসুস্থ গৃহবধূকে শরীরে কেরোসিন মেখে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই গৃহবধূর শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে, তিনি এখন ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাঘার হাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ওই গৃহবধূর নাম জোসনা বেগম (৪৫), তিনি বাঘার হাওলা গ্রামের প্রবাসী জসীমের স্ত্রী। ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

ভোলা সদর থানার ওসি মো. ছগির মিঞা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২ অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযানে চলছে। জানা গেছে, জোসনা বেগমকে গত বৃগস্পতিবার রাতে জিন তাড়ানোর নামে গায়ে কেরোসিন মেখে ঝাড়ফুকের সময় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আহতের মা মাহফুজা জানান, কিছু দিন ধরে তার মেয়ে জোসনা বেগম (৪৫) অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এটাকে জিনের আসর মনে তারা পাশের গ্রামের ওঝা বেলায়েত হোসেন ও তার নাতনি শিশু ওঝা খ্যাত রুনা বেগমকে (১৩ বছর বয়সি) দেখায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশু ওঝা রুনা বেগম জোসনা বেগমের গায়ে কেরোসিন মেখে আগরবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে ঝাড়ফুকের এক পর্যায়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনের ডাক চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে এবং রাতেই জোসনা বেগমকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছে জোসনা বেগমের শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে গতকাল দুপুরে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ গতকাল বিকালে অভিযান চালিয়ে ওঝা বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী অহিদা বেগমকে আটক করেছে।

জোসনা বেগমের মেয়ে সাথী আক্তার জানায়, আমার মা অসুস্থ থাকায় শিশু খলিফাকে আনা হয়। উনি ঝাড়ফুকের সময় আগুন লাগিয়ে দেয় আমার মায়ের শরীরে।

ভোলা সদর থানার ওসি মো. ছগির মিঞা জানিয়েছেন, সদর থানার এস আই সাহবুল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২ অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযানে চলছে।

 

"