পালিয়ে জর্জিয়ায় যাওয়া সৌদি দুই নারীর আর্তি

দাস-দাসির জীবন নয়, আমরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

‘তারা মানুষের জীবন চান। নারীর মর্যাদা চান। বাঁচার মতো বাঁচতে চান। স্বাধীনতাহীন দাস-দাসির জীবন তার চান না।’ জর্জিয়ায় রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে থাকা সৌদি আরবের দুই বোন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এই করুণ আর্তি প্রকাশ করেছেন। বিবিসি গতকাল শনিবার তাদের সম্পর্কে এ কথা জানায়। নিজের দেশ ছেড়ে পালানোর কারণ জানতে চাইলে দুই বোনের একজন ২৫ বছর বয়সি ওয়াফা বলেন, ‘আমাদের মুখ ঢেকে রাখতে হতো... রান্নাবান্না করতে হতো, যেন আমরা দাস-দাসি। এই বন্দি ও স্বাধীনতাহীন জীবন আমাদের পছন্দ নয়।’

২৮ বছর বয়সি বড় বোন মাহা আল-সুবায়ির সঙ্গে পালিয়ে আসা এই তরুণী বলেন, ‘আমরা এটা চাই না, আমরা সত্যিকারের একটা জীবন চাই।’ সবার সহযোগিতা চেয়ে ওয়াফা বলেন, ‘আপনাদের সাহায্য দরকার। আমরা নিরাপত্তা চাই, আমরা এমন একটি দেশে যেতে চাই, যারা আমাদের গ্রহণ করবে এবং আমাদের অধিকার রক্ষা করবে। টুইটারে ‘জর্জিয়া সিস্টারস’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চেয়েছেন এই দুই বোন। জাতিসংঘের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছেন যাতে তাদের তৃতীয় কোনো নিরাপদ দেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

সৌদি আরব থেকে তারা প্রথমে জর্জিয়াতেই কেন গেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে দুই বোন জানান, জর্জিয়া ভ্রমণে সৌদি আরবের নাগরিকদের ভিসা লাগে না, এ কারণেই তারা জর্জিয়ায় এসেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দুই বোন বলেন, তারা জর্জিয়াতে নিরাপদ বোধ করছেন না। কারণ এখানে সহজেই তাদের পুরুষ আত্মীয়রা খুঁজে বের করতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে ওয়াফা বলেন, ‘জর্জিয়া ছোট একটি দেশ এবং আমাদের পরিবারের যে কেউ এখানে আসতে পারে এবং আমাদের ধরে ফেলতে পারে।’

সৌদি আরবে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কারণ হচ্ছে আমরা নারী। আমাদের দেশে আমাদের পরিবারকে প্রতিদিন আমাদের হুমকি দেয়।’ তাদের এই বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে বলে জানান ওয়াফার বড় বোন মাহা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম রক্ষণশীল রাজতন্ত্রের দেশ সৌদি আরব থেকে নারীদের পালিয়ে আসার সর্বশেষ উদাহরণ এই দুই বোন। এর আগে গত জানুয়ারিতে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে আসা ১৮ বছরের তরুণী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান তাকে সৌদি আরবে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে একটি হোটেলে নিজেকে আবদ্ধ রেখে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাহাফকে আশ্রয় দেয় কানাডা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক সারাহ লেহ হুইটসন বলেন, ‘সৌদি আরবে নারীদের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষরা।’ এদিকে জর্জিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বোনদের অধিকারকে সম্মান জানাবে। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত এবং ভালো ব্যবস্থা। কিন্তু সৌদি আরবের নিয়মকানুনের কারণে নারীরা যে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সেটার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ সেইসঙ্গে নির্যাতনের শিকার সৌদি নারীদের অর্থবহ এবং কার্যকরী সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন সারাহ।

 

"