চাঁপাই ও বগুড়ায় হত্যার দায়ে ১০ জনের ফাঁসি

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তরুণীকে প্রতারণা করে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে পাঁচ জনকে এবং বগুড়ার গাবতলীর অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট ঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঃ মিথ্যা পরিচয়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ের প্রলোভনে বাড়ি থেকে বের করে এনে আয়েশা খাতুন (২০) নামে এক তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঁচজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদ-ও দেওয়া হয়েছে। একই মামলার অপর ধারায় ওই পাঁচজনের প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদ-, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদ- ও অনাদায়ে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দন্ডিতরা হলো সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা (মালবাগডাঙ্গা) গ্রামের শ্যামাপদ রবিদাসের ছেলে নয়ন কর্মকার রবিদাস (৩২), চরবাগডাঙ্গা চাকপাড়ার রতন রবিদাসের ছেলে নিতাই চন্দ্র রবিদাস (৩০), একই গ্রামের মৃত সুচন দাসের ছেলে সুভাষ দাস (৪৬), খোকন রবিদাসের ছেলে প্রশান্ত রবিদাস (২৮) ও চরবাগডাঙ্গা সোনাপট্টির বীরেন দাসের ছেলে প্রশান্ত রবিদাস (২৬)। নিহত আয়েশা সদর উপজেলার কালিনগর বাবলাবোনা গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক শওকত আলী আসামি নয়ন কর্মকার রবিদাস ও বীরেন দাসের ছেলে প্রশান্ত রবিদাসের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দ-িত অপর তিনজন পলাতক ছিলেন। মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলার নথি সূত্র ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, দন্ডিত নয়ন রবিদাস মুসলমান যুবকের মিথ্যা পরিচয়ে মোবাইল ফোনে আয়েশার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২০১৫ সালের ১১ জুন আয়েশা দর্জির কাজ শিখতে বাড়ি থেকে মামাবাড়ি যান। দুই দিন পর অর্থাৎ ১৩ জুন বিকেল পর্যন্ত তাকে মামার বাড়িতে দেখা গেছে। এরপর সেখান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। তাকে বিয়ের প্রলোভনে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ওই দিন রাতেই ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে দ-িত পাঁচজন।

বগুড়া ঃ বগুড়ার গাবতলীর অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ইয়াছিন আলী মোল্লা হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সানোয়ার হোসেন আদালতে ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরে চার্জশিট দাখিল করেন। সেই মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালতের বিচারক রায় প্রদান করেন।

মামলার রায়ে রমজান আলীর দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন (৫৫) ও আব্দুর রহিম, দন্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মামুন ও জুলফিকার আলী টুটুল এবং ময়েজ মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষীদের মারপিট করার দায়ে শাজাহান আলী সাজু ও মো. শিপনকে ৭ বছর কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ বছর কারাদন্ড; সোহাগকে ৩ বছরের কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদন্ড; রওশন আলীকে ১ বছরের কারাদন্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রায় প্রদানকালে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ২ আসামি ছাড়া সবাই উপস্থিত ছিলেন।

ওকে-পাভেল

"