জাবিতে ভয়ংকর র‌্যাগিং

মারধরে নতুন শিক্ষার্থীর কান ফেটে রক্ত

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মওলানা ভাসানী হলের দুই শিক্ষার্থী র‌্যাগিং করে এক শিক্ষার্থীর কান ফাটিয়ে দিয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে হলটির ১১৪নং রুমে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত জাহিদ হাসান তুহিন ও মো. নজরুল মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। আর মারধরের শিকার রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন ভয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মওলানা ভাসানী হলের ৪৭ ব্যাচের ৩-৪ জন শিক্ষার্থী গণরুমে গিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করান। পরে হলে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদেরও উপস্থিত করানোর নির্দেশনা দিয়ে তারা চলে যান। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪৭তম ব্যাচের ৬-৭ জন শিক্ষার্থী পুনরায় গণরুমে যান। এ সময় তারা ৪৮তম ব্যাচের সবাইকে দ্রুত ১১৪নং রুমে উপস্থিত হতে বলেন। এরপর সবাই উপস্থিত হওয়ার পরে তারা র‌্যাগিং শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিচয় দিতে ভুল করায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোশাররফকে বাংলা বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের জাহিদ হাসান তুহিন মারধর করেন। এরপর তাকে ১১৩নং রুমে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পরে ওই শিক্ষার্থী পুনরায় এসে অসুস্থবোধ করছেন বলে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জানান। তখন ১১৪নং রুমে প্রবেশ করা মাত্রই বাংলা বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের মো. নজরুল তাকে পুনরায় মারধর করেন। এতে তার বাম কান ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এরপর ৪৭ ও ৪৮তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। এ ছাড়া এ সময় মোশাররফকে ছাড়াও আরো ৪-৫ জনকে মারধর করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, কাল (বুধবার) বড় ভাইয়েরা গণরুমে ঢুকেই বলেছেন যে, আজ (বুধবার) এক্সট্রিম (র‌্যাগিং) পর্যায়ে হবে। এরপর অনেককে মারধর করা হয়। শুধু গতকাল নয়, প্রায় প্রতিদিনই ১১৪নং কক্ষে র‌্যাগিং দেওয়া হয়। র‌্যাগিংয়ে অনেককেই মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে ১০-১২ জন ছেলে একটা ছেলেকে মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তার বাম কানের বাহিরের অংশে ছিলে গেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া তাকে একজন বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পরামর্শ দিয়েছি।’

মারধরকারী নজরুল বলেন, ‘আমি তো গতকাল হলেই ছিলাম না। আমার বাবা অসুস্থ। এজন্য আমি ঢাকায় ছিলাম।’ তুহিন বলেন, ‘আমি মারধরের বিষয়ে কিছু জানি না।’ মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘প্রক্টর আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছেন। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান এ বিষয়ে বলেন, ‘হলের বিষয়। এটা হলের প্রভোস্ট দেখবেন। তবে হলের প্রভোস্ট যদি আমাদের কাছে কোনো সহযোগিতা চান, আমরা সহযোগিতা করব।’

"