উল্কার আঘাতে চাঁদ থেকে বেরিয়ে এলো পানির কণা

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আচমকা উল্কা এসে আছড়ে পড়ল চাঁদে। আর তাতেই তোলপাড় হয়ে গেল চাঁদের মাটি। বুক চিড়ে বেরিয়ে এলো পানির কণা। ফোয়ারার মতো! মিশে গেল চাঁদের বাতাসে। তারপর সেই জলকণা বাষ্প হয়ে উধাও হয়ে গেল! এ আবিষ্কারের গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-জিওসায়েন্স’-এ। যে গবেষক দলের প্রধান মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী মেহেদি বেন্না। রয়েছেন অনাবাসী ভারতীয় বিজ্ঞানী, অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্র এস কুমারমঙ্গলমও।

চমকে দেওয়ার মতো এ ঘটনার সাক্ষী থাকল নাসার পাঠানো উপগ্রহ ‘ল্যাডি’। যার পুরো নাম ‘লুনার অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যান্ড ডাস্ট এনভায়রনমেন্ট এক্সপ্লোরার’। উল্কার আচমকা আঘাতে যে চাঁদের অন্দর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারে পানির কণা, তাত্ত্বিকভাবে সে কথা বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল না। কিন্তু চোখে না দেখতে পারলে বিজ্ঞান যে কিছুই বিশ্বাস করে না। এবার প্রত্যক্ষ হলো সেই তাত্ত্বিক সত্য বাস্তবে। কলকাতার ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি)-এর অধিকর্তা সন্দীপ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হতে পারল মানবসভ্যতা। নাসার ল্যাডির দৌলতে।

সন্দীপের কথায়, ‘কীভাবে জল এসেছিল চাঁদে, সেই অজানা ইতিহাসের পাতাগুলো এবার আমাদের সামনে হয়তো খুলে যাবে। পৃথিবীর জন্মের ৫০ কোটি বছর পরই জন্ম হয়েছিল চাঁদের। মানে চাঁদের বয়সও হয়ে গেল ৪০০-৪৫০ কোটি বছর। সন্দীপ অবশ্য মনে করছেন, জল লুকিয়ে থাকতেই পারে চাঁদের মাটির সামান্য নিচে। চাঁদের অভিকর্ষ বল খুব কম বলে ওপরের স্তরের জল ওড়ে গেছে। সেখানে জলের হদিস মেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু নিচের স্তরের জল তো থেকে?ই যেতে পারে পাথরের মধ্যে। চার পাশে। সেটাই উল্কাপাতের অভিঘাতে উঠে আসতে পারে চাঁদের পিঠের ওপরে। সে কারণেই উল্কার আঘাতে এ জলকণাগুলো দেখা গেছে।

 

"