নুসরাত হত্যাকাণ্ড

আগুন দেওয়া সেই ছাত্রীসহ আটক ২

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ফেনী প্রতিনিধি

নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এক ছাত্রীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা দুজনই নুসরাতের সহপাঠী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে একজনকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদরাসার সামনে থেকে আটক করা হয়। অন্যজনকে সোমবার রাতে আটক করা হয়। এনিয়ে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৫ জনকে গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হোসাইন জানান, আটক জান্নাতুল আফরোজ উপজেলার আবদুল আজিজের মেয়ে এবং নিহত নুসরাতের সহপাঠী বান্ধবী। এর আগে সোমবার রাতে কামরুন্নাহার মনি নামে নুসরাতের আরেক সহপাঠী বান্ধবীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান। কামরুন্নাহার মনির বাবার নাম ছালেহ আহাম্মদ। নুসরাত হত্যার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের সম্পর্কে ভাগনি হন মনি। ঘটনার দিন মনি এক লিটার কেরোসিন বহন করে মাদরাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তদন্তসাপেক্ষে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, নুসরাতকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া সন্দেহে একই মাদরাসার ছাত্রী মনিকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি নূরউদ্দিন গত রোববার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিলেন, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ছাদে কামরুন্নাহার মনিও ছিল।

মনিসহ নুসরাত হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত সাতজন, বাকিরা সন্দেহভাজন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ফেনী অফিসের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, ১৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি সিরাজ-উদ দৌলাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে সাত দিনের রিমান্ড আদেশপ্রাপ্ত। ২ নম্বর আসামি নূরউদ্দিন (২০) ও তিন নম্বর আসামি শাহদাত হোসেন শামীম (২১) গত রোববার রাতে দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। চার নম্বর আসামি পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলমকে (৪৫) সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি জাবেদ হোসেনকে (১৯) সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ছয় নম্বর আসামি মাদরাসার ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক আফচার উদ্দিন (৩৫) ও সাত নম্বর আসামি আলাউদ্দিন (৩০)।

তিনি আরো জানান, এ ছাড়া কেফায়েত উল্লাহ (৩২), নুসরাতের সহপাঠী ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা (১৮), মাদরাসাছাত্র নূরউদ্দিন (১৯), নূর হোসেন (২১), শহীদুল ইসলাম (১৯), জোবায়ের আহমেদ (২১) ও আরিফুর ইসলাম (১৯) পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ পেয়ে কারাগারে আছে।

 

"