জাবিতে থামছে না র‌্যাগিং!

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে (জাবি) ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও বিভাগের কঠোর পদক্ষেপ এবং নজরদারির কারণে র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে একটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠেছিল। এমনকি র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সাত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রশাসন তার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসায় আবাসিক হলসহ বিভিন্ন স্থানে হরহামেশা র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের এক দল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং প্রদানের অভিযোগ ওঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানও বলেছেন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে অধ্যয়ন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তার কাছে মৌখিকভাবে বিভাগটির ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছেন।

সূত্র জানায়, সোমবার উপাচার্যের বাসভবন-সংলগ্ন মাঠে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে অধ্যয়নরত বিভাগের প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয়। এদিন দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এজন্য খেলার সময় ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য ৪৭তম ব্যাচের পক্ষ থেকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে খেলা চলাকালীন ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। এতে ক্ষুব্ধ ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সিটিং ডাকেন। পরে রাতে ৪৭তম ব্যাচের ১০-১২ জন শিক্ষার্থী ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গলিগালাজ ও কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ ছাড়া এক শিক্ষার্থী উত্তেজিত হয়ে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর দিকে জুতা ছুড়ে মারেন। দীর্ঘক্ষণ র‌্যাগিং প্রদানের পর একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান। এ সময় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) রাতে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে অধ্যয়ন বিভাগের ৪৮তম শিক্ষার্থীরা আমাদের বলেছিলেন, তারা র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। তারা বলেছেন, ৪৭তম ব্যাচের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী তাদের র‌্যাগিং দিয়েছেন। আমরা বলেছিলাম, ‘আজ (মঙ্গলবার) আমাদের লিখিত অভিযোগ দিতে। তবে তারা লিখিত অভিযোগ দেননি। তাছাড়া এখন তারা ঘটনা অস্বীকার করছেন। তারা বলছেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন ভুক্তভোগীরাই যদি অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে আমরা কীভাবে ব্যবস্থা নেব!’

এদিকে হল প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অনেক ছাত্র হলে গভীর রাতে গণরুমে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ছাত্র হলে গভীর রাতে গণরুমে ঢুকে নবীন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছেন ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া তাদের ওপর নানা বিধিনিষেধ জারি করে রেখেছেন তারা। আর এসব নিষেধাজ্ঞার ব্যত্যয় ঘটলেও তাদের মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি মারধরও করা হচ্ছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনুমতি ব্যতীত হলের কোনো রুমে না যাওয়া, টেলিভিশন রুমে না যাওয়া, হলের ডাইনিং-ক্যান্টিন-দোকানে খেতে না যাওয়া, লুঙ্গি পরে ওয়াশরুমে না যাওয়া, টি-শার্ট পরে হলে চলাচল না করা, শার্টের হাতা গুটিয়ে না রাখা ইত্যাদি।

জানা গেছে, নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর প্রথম কয়েক দিন শিক্ষকদের কড়া নজরদারি থাকলেও এখন সেটি নেই। এ ছাড়া কোনো কোনো হলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবরও নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এখন র‌্যাগিংয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। আমি আজও একটা ঘটনা শুনলাম। আমি শিগগিরই প্রভোস্ট কমিটির মিটিং ডাকব। সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। যাতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা যায়।’

 

"