আগুনে পুড়ল নটরডেম ক্যাথেড্রাল পুনর্নির্মাণের অঙ্গীকার ম্যাক্রোঁর

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্যারিসের বিখ্যাত স্থাপনা নটরডেম ক্যাথেড্রাল গির্জা। আগুনে গির্জাটির ছাদ ধসে গেছে, উঁচু মিনারটিও ভেঙে পড়েছে, গির্জাটির অভ্যন্তরের কাঠের অংশগুলো পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে পাথরের মূল কাঠামোটি কোনো রকমে রক্ষা পেয়েছে। এদিকে প্যারিসের ওই ‘আইকনিক’ স্থাপনা আগুনে পোড়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেছেন, এই ক্যাথেড্রালের ক্ষয়ক্ষতি শুধু ফ্রান্সের জনগণই নয়, মানবজাতির জন্য ‘দুঃখজনক ও হৃদয় বিদারক’।

আগুনে ক্যাথিড্রালটির ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্যারিসের ডেপুটি মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগরি। জরুরি বিভাগগুলোর কর্মীরা ক্যাথেড্রালে রাখা শিল্পকর্ম ও অমূল্য নিদর্শনগুলো রক্ষার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্যারিসে বহু অনন্য ভবন থাকা সত্ত্বে¡ও সাড়ে আট শ বছরের পুরোনো ১৩০০ শতাব্দীতে তৈরি গথিকশৈলীর এই গির্জাটি নান্দনিক বৈশিষ্ট্যের রয়েছে এর তিনটি রোজ উইন্ডো। সেগুলো আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। প্রথমটি ও সবচেয়ে ছোটটি আছে গির্জার পশ্চিম দিকের প্রবেশপথের ওপর। গির্জাটি দেখতে আসা পর্যটকরা এই দুটি টাওয়ারের সামনে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে এর শৈলী উপভোগ করেন।

১২০০ শতাব্দীতে গির্জার পশ্চিম দিকের এই সম্মুখভাগটির নির্মাণ শুরু হয়েছিল, কিন্তু উত্তর দিকের প্রথম টাওয়ারটি নির্মাণকাজ ৪০ বছরের আগে শেষ করা যায়নি। তবে দক্ষিণের টাওয়ারটির নির্মাণকাজ ১২৫০ সালের মধ্যেই শেষ হয়।

দুটি টাওয়ারই ৬৮ মিটার উঁচু। ৩৮৭টি সিঁড়ি টপকে ওপরে উঠলে এখান থেকে প্যারিসের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।

রহস্যময় পৌরাণিক এই জন্তুগুলো সাধারণত অনেকগুলো প্রাণীর বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ‘স্ট্রাইজ’ গার্গগয়েলস্ নামে পরিচিত সবচেয়ে বিখ্যাতটি ভবনের শীর্ষে বসে হাতে মাথা রেখে প্যারিস শহরের দিকে তাকিয়ে আছে।

নটরডেম গির্জায় ১০টি ঘণ্টা আছে। ইমানুয়েল নামের সবচেয়ে বড়টির ওজন ২৩ টন। ১৬৮৫ সালে দক্ষিণ টাওয়ারে এটি স্থাপন করা হয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় আসল ঘণ্টাগুলো গলিয়ে কামানের গোলা বানানো হয়েছিল। পরে সেগুলোর নমুনা বানিয়ে এক-একজন সন্তের নামে প্রত্যোকটির নামকরণ করা হয়। এ সময় মিনারটিকে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পরে ১৮৬০ সালে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিশ্ববিখ্যাত লেখক ভিক্টর হুগো গির্জাটিকে ১৮৩১ সালে তার লেখা উপন্যাস ‘দ্য হ্যাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’র পটভূমি করেছিলেন।

নটরডেমের বেশ কিছু পুরোনো নিদর্শন ছিল। এর মধ্যে ক্রাউন অব থর্নস বা কণ্টক মুকুটটিকে আগুন থেকে রক্ষা করা গেছে বলে জানা গেছে।

নটরডেম ক্যাথেড্রাল পুনর্নির্মাণ করা হবে : ম্যাক্রোঁ

প্যারিসের পুড়ে যাওয়া নটরডেম ক্যাথিড্রাল পুনর্নির্মাণের প্রত্যয় জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ প্রায় আট ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলার পর মঙ্গলবার ভোররাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। মধ্যরাতের একটু আগে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিণতি এড়ানো গেছে।’ আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তিনি বলেন, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এটি পুনর্নির্মাণ করব আমরা। এটি নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের ভবিষ্যতের অংশ হবে এবং আগামী বছরগুলোতে আমাদের প্রধান প্রকল্প হতে যাচ্ছে,’ বলেন ম্যাক্রোঁ। ‘নটরডেম পুনর্নির্মাণ করব, কারণ ফরাসিরা এটিই প্রত্যাশা করে,’ বলেন তিনি। এটি ধার্মিক-অধার্মিক ‘সব ফরাসির’ ক্যাথেড্রাল এবং এটি তাদের জীবনের ‘অন্যতম কেন্দ্র’ বলে মন্তব করেন তিনি।

 

"