কোটালীপাড়ায় পূজা

পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে চাড়ক বালার অদ্ভুদ কসরত

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে চড়কপূজা হয়েছে। গত রোববার উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামে এ পূজা হয়। ৩০০ বছরের পুরোনো এ পূজা দেখার জন্য কোটালীপাড়া উপজেলা এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে পূজাস্থলে। পূজাকে কেন্দ্র করে বসে মেলা। ঢাক-কাশীর বাদ্য ও উলুধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মুড়ি-মুড়কি ও বিভিন্ন প্রকার খেলনার পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। বিকেলে চড়কপূজা হলেও সকাল থেকেই শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিকতা। সব বয়সের নারী-পুরুষ আসে এ পূজা দেখার জন্য।

প্রায় ৩০ ফুট লম্বা একটি গাছ পুঁতে তার মাথায় বাঁশের চরকা তৈরি করা হয়। এ বাঁশের চরকার এক মাথায় রশি বাঁধা হয়। রশির নিচের অংশে বড়শি বেঁধে সেই বড়শির সঙ্গে চড়কপূজার বালার (একজন হিন্দু) পিঠে ছিদ্র করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাঁশের চরকির ও অপর অংশে রশি বেঁধে ঘোরানো শুরু হয়। পূজার বালা বড়শিতে ঝুলে ঘুরতে থাকে। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা বালাকে ঘোরানো হয়। এ বছর প্রশান্ত বাড়ৈ নামে এক বালা পিঠে বড়শি ফুড়ে চড়কগাছে ঘোরেন। প্রশান্ত বাড়ৈ বলেন, ‘আমি এ বছর নিয়ে চারবার পিঠে বড়শি ফুঁড়ে চড়কগাছে ঘুরলাম। এভাবে ঘুরতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। আমি মহাদেবের নাম নিয়ে এ চড়কগাছে ঘুরি। আমার এই চড়ক ঘুল্লী দেখে এখানে আগত হাজার হাজার জনগণ আনন্দিত হয়। মহাদেব আমাকে বাঁচিয়ে রাখলে আগামী বছরও ঘুরব।’

চড়কপূজার বালা মনোরঞ্জন বিশ^াস বলেন, ‘এ চড়কপূজায় অনেক লোক তাদের মনোবাসনা পূর্ণের আশায় অনেক কিছু মানত করে। তারা পূজার দিন মানতকৃত উপকরণ নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়।’

পিনজুরী গ্রামের ইন্দ্রজিত সেনগুপ্ত বলেন, আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে এ এলাকার বিখ্যাত কবিরাজ রমেশ চন্দ্র সেন চড়কপূজা শুরু করেছিল। সেই থেকে এই স্থানে চৈত্রসংক্রান্তির দিন এখানে চড়কপূজা হয়।

"