এবার বাজেটে নৌপথে গুরুত্ব পাচ্ছে ৬ বড় প্রকল্প

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নৌপথে ছয়টি বড় প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পগুলো হলোÑ পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন, ডেজারসহ যন্ত্রপাতি কেনা, ৫৩ রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও চাঁদপুর-পাকশী রুটে নাব্য উন্নয়ন। এসব প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। নৌ সচিব মো. আবদুস সামাদ উল্লেখিত অর্থ চেয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় এসব প্রকল্পে ডিপিপির বছরভিত্তিক প্রাক্কলন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্পের বরাদ্দও যথাসময়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আগামী বাজেটে উন্নয়ন খাতে সিলিংয়ের (নির্ধারিত বরাদ্দ) অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৫ হাজার ২০৬ কোটি বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা যায়, আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অর্থ মন্ত্রণালয় সিলিং দিয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ৩ হাজার ২০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং অনুন্নয়ন বাজেট ৬৮২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে নৌ মন্ত্রণালয় উন্নয়ন খাতে ওই বরাদ্দের পাশাপাশি আরো ২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত চেয়েছে। সূত্র জানায়, ওই টাকার মধ্যে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়। এ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প। গত বছরের জুন পর্যন্ত এতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। পায়রা সমুদ্রবন্দর উদ্বোধনের পর পূর্ণাঙ্গ বন্দর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার মধ্যে সীমিত পরিসরে বন্দরের কার্যক্রম শুরু করার জন্য দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর একটির ব্যয় ৩ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা এবং

অন্যটির ৩ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপন প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আগামী বাজেটে ৬০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার ও নদীর নাব্য ঠিক রাখার জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি কেনায় ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে নতুন অর্থবছরের জন্য। অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩ রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পে গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮০৮ কোটি টাকা। কাজটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে আগামী বাজেটে আরো ২০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। সমপরিমাণ টাকা চাওয়া হয়েছে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌরুটের নাব্য উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য। এতে বলা হয়েছে, অগ্রাধিকারভিত্তিক রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভারী যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়া করতে নদীর নাব্য দরকার। তাছাড়া ১০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্পের জন্য। প্রকল্পটি চলমান আছে। ম্যাচিং ফান্ডসহ জিওবি খাতে অন্য ব্যয় নির্বাহের জন্য অতিরিক্ত ওই অর্থ চাওয়া হয়। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, পুনর্ভবা ও তুলাই নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প হচ্ছে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকার।

"