ডিপিএসের মেয়াদ পূরণের পরও গ্রাহকরা টাকা পাচ্ছেন না

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বেসরকারি ঢাকা ব্যাংক ডিপিএস খাতে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণায় নেমেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ডিপিএস হিসাবের মেয়াদপূর্তির পরও গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, অনেক গ্রাহকের হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখার বিরুদ্ধে। এই ব্যাংকের স্থানীয় ব্যবস্থাপক বলেছেন, যাদের কিস্তি বাকি পড়েছে তাদের ‘হিসাব’ বন্ধ করা হয়েছে। গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার কথা তিনি স্বীকার করেনি।

সূত্র জানায়, ঢাকা ব্যাংকে বিভিন্ন মেয়াদে ও বিভিন্ন কিস্তিতে মাসিক টাকা জমা দেওয়ার (ডিপিএস) হিসাব খোলেন অনেক গ্রাহক। ১০ বছর, ১২ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে মাসিক কিস্তি পরিশোধের পর যেই হিসাব মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় হয় ঠিক তখনই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে বিভিন্ন অজুহাত তুলে নির্দেশনা দিয়ে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয়। যা গ্রাহকদেরও জানানো হয় না। এ অবস্থায় গ্রাহক যখন ব্যাংকে যোগাযোগ করেন তখন নানা হয়রানির মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন অজুহাত তোলা হয়। অথচ হিসাব খোলার সময় গ্রাহককে এসব অজুহাতের কোনো কথায় বলা হয় না, উল্টো গ্রাহককে নানা প্রলোভন দিয়ে হিসাব খুলিয়ে আমানত সংগ্রহ করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, সাত থেকে আট মাস আগে হঠাৎ করেই ঢাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি নির্দেশনা জারি করে যে, যাদের কয়েক কিস্তি বকেয়া রয়েছে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হবে। এসব নির্দেশনা গ্রাহকদের না জানিয়েই ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার কর্মকর্তারা অনেক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছেন। যার কারণে ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার অনেক গ্রাহকই বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শিকার হচ্ছেন হয়রানিরও। ঢাকা ব্যাংকের বেশ কয়েকজন গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, ১০ থেকে ১২ বছর কিস্তির টাকা পরিশোধ করে যখনই ডিপিএস হিসাবটি মেয়াদোত্তীর্ণের পর্যায়ে চলে আসে তখনই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে তাদের না জানিয়ে ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেন। পরে কয়েক কিস্তি বকেয়া থাকাসহ বিভিন্ন অজুহাতে লভ্যাংশ না দেওয়ার বা কম দেওয়ার একটি ফন্দি তৈরি করেন। অথচ এ ধরনের নিয়মের কথা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের হিসাব খোলার সময় অবহিত করেননি। এছাড়া তাদের জানামতে বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কিস্তি বকেয়া থাকলে তা পরবর্তী সময়ে সুদসহ আদায় করে তা সমন্বয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা ব্যাংক যে পদ্ধতিতে হিসাব বন্ধ করে দিয়ে লভ্যাংশ কম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গ্রাহকের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব গ্রাহক আরো জানান, মূলত নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকজনই দীর্ঘমেয়াদি একটি টার্গেট নিয়ে মাস-খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে সঞ্চয় করেন। যাতে নির্দিষ্ট সময় পর গিয়ে ওই টাকা দিয়ে কিছু একটা করবেন বলে। সেই স্বপ্নও দেখায় ব্যাংকগুলো। আর বেশির ভাগ ডিপিএস খাতে সঞ্চয় করেন নারীরা। এখন ব্যাংক এ গ্রাহকদের না জানিয়েই ইচ্ছামতো হিসাব বন্ধ করা ও লভ্যাংশ কেটে রাখার কথা বলায় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এসব প্রতারণার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান বেশ কয়েকজন গ্রাহক।

ফারজানা ইয়াছমীন নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২০০৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাসিক ২ হাজার টাকা কিস্তিতে একটি ডিপিএস হিসাব খুলেছিলেন তিনি। চলতি বছর ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি হিসাবটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণেও দেড় মাস পার হলেও লভ্যাংশ ও মূল টাকা গ্রাহকের বরাবরে পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় ওই নারী লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত চেয়ে গত ৭ মার্চ ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা ব্যবস্থাপকের বরাবরে আবেদন করেন। আর ওই আবেদনের এক মাস পরও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওই নারী গ্রাহকের। তার মতো আরো অনেকেই ঢাকা ব্যাংকে হিসাব খুলে প্রতারণা ও হয়রানির শিকার বলে তিনি জানান।

ঢাকা ব্যাংক কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা নয়, যাদের কিস্তি বকেয়া রয়েছে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকের হেড অফিসের একটি নির্দেশনার আলোকে প্রতি মাসেই বেশ কয়েকটি করে হিসাব বন্ধ করা হচ্ছে। নির্দেশনাটি গ্রাহকদের জানানো হয়েছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, এ ধরনের নির্দেশনা আগে ছিল না। ৮ থেকে ৯ মাস আগে তা জারি করা হয়েছে।

 

"