মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা

সোনাগাজীতে যারা প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করেন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ফেনীর সোনাগাজীর স্থানীয় একজন স্কুলশিক্ষিকা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নুসরাত রাফির ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর কয়েকশ ছাত্রীকে নিয়ে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলটি তারাই বের করেছিলেন।

সোনাগাজী গার্লস পাইলট হাইস্কুলের শিক্ষিকা বীথি রানী গুহ বলছেন, এই ঘটনায় সারা দেশের মতো সোনাগাজীর মানুষও ছিলেন বিক্ষুব্ধ, কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর ভয়ভীতি-হুমকির মুখে হয়তো অনেকে সেভাবে সোচ্চার হতে পারেনি। মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেফতারের পর ২৮ তারিখ বেলা ১১টা আমরা মেয়েদের নিয়ে রাস্তায় প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সমাবেশ করেছি। সব শিক্ষক এবং প্রায় সাতশর বেশি ছাত্রী সেখানে ছিল। একটা নিরপরাধ মেয়েকে কেন একজন শিক্ষক নির্যাতন করলেন, কেন একটি মেয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হলো, ওই অধ্যক্ষের শাস্তির জন্য আমরা মানববন্ধন করেছি। কিন্তু এই প্রতিবাদ সমাবেশ করার সময় স্থানীয়ভাবে কোনো সমর্থন তারা পাননি। বীথি রানী বলছেন, সরাসরি কেউ কিছু বলেনি, তবে পরে ফেসবুকে অনেকে লিখেছে যে, মাদ্রাসায় হলেও সেখানের কেউ প্রতিবাদ করছে না, আশপাশের স্কুল থেকে প্রতিবাদ হচ্ছে না, অথচ অন্য স্কুলের ছাত্রীরা প্রতিবাদে নেমেছে, এটা তাদের পছন্দ হয়নি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন তার মা। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে কয়েকজন বোরকাপরা ব্যক্তি নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল বুধবার নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। নুসরাত জাহানের মৃত্যুর পরে সোনাগাজীতে কয়েকটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।

যখন নুসরাত জাহানের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন ফেনীতে স্থানীয়ভাবে কতটা কী প্রতিবাদ হয়েছে বিবিসির প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষিকা বলেন, তেমন কোনো প্রতিবাদ হয়নি। কারণ প্রশাসন সক্রিয় থাকায় পক্ষে-বিপক্ষে তেমন কোনো কথা হয়নি। ভেতরে ভেতরে সবাই ক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল। বৃহস্পতিবার থেকে (মারা যাওয়ার পর) কিছুটা প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে তেমন সোচ্চার প্রতিবাদ হয়নি। স্থানীয় কিছু ক্ষমতাশালী লোকজনের কারণে এই প্রতিবাদ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। এই এলাকাটি একটু গ্রামীণ এলাকা, বিশেষ করে ধর্মবিশ্বাস বেশি। এখানকার মহিলার বাইরে চলাফেরা করে কম, তাদের ভেতর ভয়ভীতিও বেশি থাকে।’

এমন অবস্থায় তারা কীভাবে ২৮ তারিখে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা স্কুলের শিক্ষকরা মনে করলাম, একটা মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, আমরা একটি নারী প্রতিষ্ঠান, মেয়েদের স্কুল, আমাদের তো মাঠে নামতেই হয়। আমরা মহিলা শিক্ষক আছি ১২ জন, শিক্ষার্থী আছে এগারোশর ওপরে। আমরা মনে করলাম, আমাদের প্রতিবাদ করা উচিত, সে কারণেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। শরীর একটু পুড়ে গেলে যা কষ্ট হয়, আর এই মেয়েটি তো শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পরও পাঁচ-সাত দিন কীভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছে, সেটা অনুভব করলে আর বলার ভাষা থাকে না। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে মেয়েরা যেন অবশ্যই প্রতিবাদ করে, শিক্ষার্থীদের তিনি সবসময় সেই পরামর্শই দেবেন।

 

"