স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করার অর্থ হলো তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে আয়ের উৎস সৃষ্টি করা। এই আয় এলাকার সার্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। এজন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। কুষ্টিয়া পৌরসভার দেড়শ বছরপূর্তি উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের ১২তম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, দেশে পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে। এসব প্রতিষ্ঠান স্বাবলম্বী করতে হলে অবশ্যই তাদের আয়ের উৎস বৃদ্ধি করতে হবে। তা না হলে এসব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে না। আমাদের পৌরসভাগুলোর বেশির ভাগই তাদের নিজস্ব আয়ে চলছে। অন্যান্য দেশে উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের সংস্থান করে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো আর আমাদের দেশে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ সরকার সহযোগিতা করে। এর আগে তিনি যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন করেন।

যশোর প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে হংকং, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার। স্বপ্নপূরণের আগেই সপরিবারে হত্যা করা হয় তাকে। যাতে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। কিন্তু কুচক্রী মহলের আশা পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। অচিরেই এ দেশকে হংকং-সিঙ্গাপুরের আদলে সাজানো হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান দেশের ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন গ্রহণ করছেন। যারা একসময় মাত্র ৫০০ টাকার ভাতা পেতেন। যা শেখ হাসিনার সরকার তাদেরকে জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। পুলিশ সদস্যরা একসময় ১ হাজার ৫০০ টাকার বেতনে চাকরি করতেন, বর্তমানে ২০ হাজার টাকা বেতন গ্রহণ করে থাকেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এ দেশের কোনো সাধারণ নাগরিকও অভাব অনুভব করবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরীফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান।

মনিরামপুর পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মনিরামপুরবাসীর দাবি-দাওয়া জানানো লাগবে না। মনিরামপুর-লাকসাম একইভাবে উন্নয়নের মডেলে মোড়ানো হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সারের জন্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামাতে ১৭ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এম কিবরিয়া, আইভি রহমানসহ অসংখ্য জাতীয় নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। খাদ্যের জন্য হাহাকার করেছে জনগণ। বর্তমানে মানুষের খাদ্যের অভাব নেই।

বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইফুর রহমান জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন, দেশে অভাব না থাকলে বৈদেশিক সাহায্য মিলবে না। তার মানে তারা দেশে অভাব রাখতে চায়। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ক্ষুধা দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে; যা বর্তমানে সরকার সে লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এ দেশকে সোনার বাংলা তৈরি করা। আজ তারই যোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

"