ভাইপোকে নিয়ে অস্বস্তিতে মমতা বিজেপি বলছে যুদ্ধ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

পশ্চিমবঙ্গে এবার লোকসভার ভোটে নাকি যুদ্ধ লেগে যেতে পারে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে! এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। আগের বারে দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য মানে, এমপি আলুওয়ালিয়া, বর্ধমানের খক্কর সাহের দরগায় চাদর চড়িয়ে প্রার্থনার পর প্রচার শুরু করেছেন। আর দরগাতেই ভোট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ফেয়ার ইলেকশন করাতে চায়। রাজ্য সরকার যেভাবে নিজের পুলিশ বাহিনী নিয়ে লুট শুরু করেছে, কোনোভাবেই তা বরদাশত করা যাবে না। কোনো দলই বরদাশত করবে না। এই সরকার ইভিএম মেশিনকে বিশ্বাস করে না, ভোটের পরম্পরাকে মানে না। তিনি আরো বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভয় পেয়ে গেছে। যদি মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তা হলে তৃণমূল সরকার বাঁচবে না বলেও দাবি করেছেন আলুওয়ালিয়া।

তবে আপাতভাবে ভয় না পেলেও পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সত্যি বিপদে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। মমতার ভাইপো তথা তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর সোনা পাচারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। ১৬ মার্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলাকান্ডে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বেঞ্চ শুক্রবার এ নোটিস দিয়েছে। সম্প্রতি রাজীব কুমার মামলার শুনানিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আনেন। বিষয়টি ‘খুব গুরুতর’ বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। নোটিস দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, কোনো একটি বিষয়ে কেউ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এটা খুব গুরুতর। আমরা জানি না, কার দাবি সঠিক। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার মামলায় রাজ্য সরকারের আইনজীবী এবং কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংঘভি দাবি করেছেন, এই মামলায় নোটিস পাঠানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই দাবিকে কার্যত গুরুত্ব না দিয়ে নোটিস রাজ্য সরকারকে শীর্ষ আদালতের। অভিযোগ, ১৬ মার্চ ভোররাতে ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের বিমানে দমদম বিমানবন্দরে নামেন তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা এবং তার সঙ্গী মেনকা গম্ভীর। অভিযোগ, চেক আউটের সময় বিমানবন্দরে কর্তব্যরত কাস্টমস অফিসাররা নারুলাকে আটকান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আগাম না জানিয়ে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় বেশি সোনা নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেই সময় রাজ্য পুলিশ তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে পুলিশে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যদিও পাল্টা হেনস্তার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছিলেন রুজিরা নারুলাও।

এরই মধ্যে পাহাড়ে কার্শিয়াংয়ে ভোট প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দাবি করেছেন, বিজেপি এবার দেশের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ১০০টিতে জিতবে। তিনি বলেছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবে, কে কী হবে, সেসব পরে ঠিক করবেন। বিরোধীরা মিলেমিশে সরকার গড়বেন। সেখানে বিজেপি ৫৪৩ আসনে ১০০ আসনও পাবে না দাবি করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, উত্তর-পূর্বে এনআরসির জন্য কেউ, বিজেপিকে ভোট দেবে না। কর্ণাটক, তামিলনাড়–, ওড়িশা, অন্ধ্র প্রদেশ কোথাও মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবে না। বাংলায় বিজেপি জিরো হয়ে যাবে। এরপরই মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি কীভাবে জিতবে? উত্তর প্রদেশে ৭৩টা আসন ছিল, এবার অর্ধেকও পাবে না।

পশ্চিমবঙ্গের এবারের লোকসভার ভোটে উত্তেজনা যে বাড়ছে, তা বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক তরজার মধ্যে প্রথম দফার থেকে দ্বিতীয় দফায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে। আর নিরাপত্তাব্যবস্থা আঁটসাঁট করতে তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা। দ্বিতীয় দফার ভোটে ব্যবহার করা হবে ১০০ কোম্পানির বেশি আধাসেনা। দ্বিতীয় দফার ভোটে বাইরে থেকে আনা হচ্ছে আরো ৪০ কোম্পানি বাহিনী। ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ভোট। ওইদিন পাহাড়ে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে ভোট। সেই সঙ্গে সমতলে জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জে ভোট। ২০১৭ সালের মোর্চা বিক্ষোভে উত্তপ্ত দার্জিলিংয়ের ছবি এখনো টাটকা। প্রথম দফার ভোটে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যে আসছে আরো ৪০ কোম্পানি আধাসেনা। অর্থাৎ, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেই রাজ্যে মোতায়েন করা হবে মোট ১২৩ কোম্পানি বাহিনী। উত্তর-পূর্বের নাগাল্যান্ড, সিকিম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় থেকে বাহিনী আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

"