ঝিনাইদহে বক্তারা

লোকসংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে দুই দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার শহরতলীর ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়ক সংলগ্ন জোহান ড্রিমভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। তখন বক্তারা বলেন লোকসংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, জনবান্ধব, সেবামুখী ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মাঠ প্রশাসন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। আগামী দিনে এ প্রশাসন জনগণের সেবায় ভালো ভূমিকা পালন করবে। এর আগে সম্মেলন উপলক্ষে সকালে পুরাতন ডিসি অফিস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও প্রেরণা-’৭১ চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর এমিরিটাস বরুন কুমার চক্রবর্তী, বাংলাদেশের টাইমস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, লোকসংস্কৃতি আমাদের সাহিত্যে পাখির মায়ের মতো আকড়ে আছে। আমাদের লোকসংস্কৃতি চর্চা দিন দিন বাড়ছে। বাংলার লোকসংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে তুলের ধরার জন্যই এ আয়োজন।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন, পশ্চিমবঙ্গে কথা সাহিত্যিক নলিনী বেরা, ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর বেলা দাস, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর রজত কুমার দে, কলকাতার লৌকিক সম্পাদক ড. কোয়েল চক্রবর্তী, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর আর্টস ও হিস্ট্রি বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বর ডেমন্ড যোসেফ মন্টেক্লর, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা, শ্রীলংকা ও সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ফোকলোর গবেষকরা অংশ নেন।

এছাড়া, প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জোহান ড্রিমভেলি পার্কে একাডেমিক অধিবেশন, লোক আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২য় দিন আজ শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে শোভাযাত্রা, একাডেমিক অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসিকোর্ট মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে। সম্মেলনের ৬টি একাডেমিক অধিবেশনে ৬৪টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফোকলোর গবেষণা কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর বিভাগ, ভারতের লৌকিক, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও ঝিনাইদহ পৌরসভা এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

 

"