ক্যানসার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি...

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সাফল্যের খবর দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা এবং একইসঙ্গে তারা চিকিৎসার জন্য নতুন কিছু ধারণাও নিয়ে এসেছেন। তারা বলছেন, এখন থেকে ক্যানসারের চিকিৎসায় পুরো শরীরের জন্য ওষুধ না দিয়ে শুধু আক্রান্ত কোষগুলোর চিকিৎসা সম্ভব। ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের একটি দল ৩০ ধরনের ক্যানসার থেকে ক্যানসারের কোষগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। বিবিসি গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর জানায়।

এখানে ওষুধ প্রয়োগ করে প্রায় ৬০০ নতুন ধরনের ঝুঁকি নিরসন করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এ মুহূর্তে ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়া হয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পুরো শরীরেই কম-বেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। গবেষকদের একজন ডা. ফিওনা বেহান। তার মা ক্যানসারে দুইবার আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। প্রথম দফায় ডা. বেহানের মাকে যে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল তাতে তার হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয়বার তিনি যখন আবার ক্যানসার আক্রান্ত হলেন তখন চিকিৎসা নেওয়ার মতো অবস্থা আর তার ছিল না। ডা. বেহান বিবিসিকে বলছেন, ‘এখন যে চিকিৎসা আমরা করছি তা ক্যানসার রোগীর পুরো শরীরের চিকিৎসা। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষগুলোকে চিহ্নিত করছি না। এ গবেষণায় আমরা ক্যানসার কোষগুলোর দুর্বলতম স্পটগুলোকে শনাক্ত করেছি এবং এটি আমাদের ওষুধ তৈরিতে সহায়তা করছে। এগুলো শুধু ক্যানসার কোষগুলোরই চিকিৎসা দেবে এবং ভালো কোষগুলোকে অক্ষত রাখবে।’ গবেষকরা বলেছেন, ক্যানসার মানুষের শরীরের ভেতরের কোষগুলোকে পরিবর্তন করে দেয়। ফলে ডিএনএ নির্দেশনাও পরিবর্তন হয়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে আক্রান্ত কোষগুলো ছড়াতে থাকে ও এক পর্যায়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

এখন গবেষকরা বলছেন, তারা ক্যানসার জিনগুলো অকার্যকরের পথে অগ্রগতি অর্জন করেছেন এবং তারা দেখতে চেয়েছেন যে কোনগুলো বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩০ ধরনের ক্যানসার থেকে ল্যাবরেটরিতে বেড়ে উঠা ৩০০টির বেশি টিউমারের জিন বাধাগ্রস্ত করেছেন তারা। এজন্য তারা বিশেষ ধরনের জেনেটিক টেকনোলজি ব্যবহার করেছেন, যেটি গত বছর চীনে ব্যবহৃত হয়েছিল। ডিএনএতে কাজ করার জন্য এটি মোটামুটি সহজ ও নতুন। নতুন এ গবেষণা ক্যানসার চিকিৎসার জন্য যে ধারণা নিয়ে এসেছে সেটি চিন্তা করা এক দশক আগেও অসম্ভব ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

জার্নাল নেচারে এ গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে যেখানে গবেষক ৬ হাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিন চিহ্নিত করেছেন। ডা. বেহান বলছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি ক্যানসার সেলগুলোতে কী হচ্ছে, যাতে করে সুনির্দিষ্টভাবেই ওই কোষগুলোকে ওষুধ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা যায়।’ গবেষকদের প্রধান লক্ষ্য প্রত্যেকটি ধরনের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য একটি ‘ক্যানসার ডিপেনডেন্সি ম্যাপ’ প্রণয়ন করা। এর ফলে চিকিৎসকরা টিউমারগুলো টেস্ট করে ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংসের জন্য ওষুধ দিতে পারবেন। ‘এটা লেজার সাইট প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ,’ বলেছেন ডা. বেহান।

 

"