শূন্যরেখায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা, বিজিপির ঘন ঘন গুলিবর্ষণ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তু¤্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিতে একের পর এক অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিপি)। এর আগে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখালেও কয়েক দিন ধরে বিজিপি দিনের আলোতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন সেতুর নিচ দিয়ে লোহার নেট তৈরি করছে। আর রাতের বেলায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিতে ঘন ঘন ফাঁকা গুলিবর্ষণ করছে। এসব তথ্য জানা গেছে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীদের সূত্রে।

বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি পতাকা বৈঠকের জন্য বিজিপিকে বারবার চিঠি দিলেও তাতে ওরা সাড়া দিচ্ছে না। মাঝখানে গত সোমবার নির্মাণ বন্ধ রাখলেও গত মঙ্গলবার থেকে বিজিপি ফের নেট তৈরির কাজ শুরু করে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেওয়া ছাড়াও সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, বিজিপি এখান থেকে আমাদের তাড়াতে নানা চেষ্টা করছে। সবশেষ ওরা অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি ও রাতে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা ছৈয়দুল বশর জানান, কয়েক দিন আগে তু¤্রুর রাইটের উত্তরে ব্রিজের নিচে নেট দিয়ে বেড়া দিতে শুরু করে বিজিপি। বিজিবির তৎপরতায় সোমবার কাজ বন্ধ রাখলেও মঙ্গলবার থেকে ফের কাজ শুরু করে মিয়ানমার। এই নেট তৈরি করা হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানিতে শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা ভেসে যাবে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা। ব্রিজের নিচে লোহার রড দিয়ে নেট তৈরিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, ব্রিজটি মিয়ানমারের ভেতরে হওয়ায় সুসম্পর্ক বজায় রেখেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ফের নেট তৈরির কাজ শুরু করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে বিজিপিকে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সেনা নির্যাতনে পালিয়ে এসে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা। তখন থেকেই তাদের রেডক্রস মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

 

"