নুসরাত হত্যার বিচার চেয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ : অধ্যক্ষের কুশপুতুল দাহ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পাশাপাশি নুসরাত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নুসরাত হত্যার বিচারের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে হত্যায় জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। এ সময় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরু বলেন, এ হত্যাকান্ডের বিচার যেন তনু হত্যার মতো আটকে না যায়। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সাড়ে ৩ ধর্ষণ হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। ছাত্রসমাজ মনে করছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার কোনো মা-বোন যদি নির্যাতনের শিকার হয় তা হলে বাংলার ছাত্রসমাজ আর বসে থাকবে না। নুসরাত হত্যার বিচার না হলে এ ঘটনা আবার ঘটবে।’ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে তিনি হত্যার বিচার দাবি করেন।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, আমার বোন মরল কেন, ‘প্রশাসন বিচার চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি সেøাগান দেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এ কর্মসূচিতে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার কুশপুতুল দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে এক মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী লামইয়া তানজিন তানহা বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীরা কতটুকু নিরাপদ, তা ফেনীর নুসরাত হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি। যে দেশে প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সে দেশে কেন মেয়েদের নিরাপত্তা নেই? আমরা নুসরাত হত্যার বিচার দাবি করছি।’

এ সময় মানববন্ধনে চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল করিম বলেন, ‘একের পর ঘটনা ঘটেই চলেছে। কোনো ঘটনার বিচার না হওয়ার কারণে শুধু ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নুসরাতকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা মধ্যযুগীয় হত্যাকান্ডকে হার মানিয়েছে। নুসরাত মৃত্যুক্ষণে থেকেও বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তাকে বাঁচার সুযোগ দিতে পারিনি। আজকে যদি নুসরাত বিচার না পায়, তা হলে অপরাধীরা বিজয়ী হবে। আমরা অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

 

"