বিরাট বাজারে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের সম্ভাবনা

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

হাসানুজ্জামান তুহিন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

৮০০ থেকে ১ হাজার খ্রিষ্টাব্দে একটি সমৃদ্ধ নগরী ছিল রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের খিরতলা গ্রামটি। মহাভারতে উল্লিখিত ‘বিরাট রাজার রাজমহল’ ও সেই সময়ের রাজাদের ‘মন্দিরের’ ধ্বংসাবশেষের নিদর্শন মিলেছে রায়গঞ্জ উপজেলার খিরতলা গ্রামে। শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী সরেজমিন প্রতœতাত্ত্বিক জরিপ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখানে বড় ধরনের প্রতœতাত্ত্বিক আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রিফাত-উর-রহমান ও ফারহানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের খিরতলা গ্রামটি ৮০০ থেকে ১ হাজার খ্রিষ্টাব্দে একটি সমৃদ্ধ নগরী ছিল। মহাভারতে বর্ণিত আড়াই হাজার বছর আগের বিরাট রাজার প্রাসাদ ছিল এখানে। খিরতলা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে অন্তত অর্ধশতাধিক উঁচু ঢিবি রয়েছে। প্রাচীন আমলের ইট দিয়ে তৈরি অনেক মন্দির ছিল এখানে। ঢিবিগুলোকে স্থানীয়রা রাজার বাড়ি বলে অভিহিত করেন। ঢিবিতে প্রাচীনকালের ইট নির্মিত স্থাপনার ভগ্নাংশ দৃশ্যমান। ঢিবিসংলগ্ন কৃষি জমিতে হাঁটলে প্রচুর মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ চোখে পড়ে।

গবেষকরা জানান, ঢিবিতে পাওয়া পোড়ামাটির চিত্রফলক দেখে ধারণা করা যায়, এগুলো গুপ্ত-পরবর্তী যুগের। গুপ্ত আমলের একটি মুদ্রাও এখানে পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, স্থানটি গুপ্ত কিংবা পাল আমলে একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। এখানকার ঢিবিগুলো খনন করলে মন্দির এবং স্তূপাদির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার পাবনা’র সূত্র মতে নিমগাছি অতি প্রাচীন স্থান। এটিকে মহাভারতে বর্ণিত বিরাট রাজার শহর বলে অভিহিত করা হয়। প্রাচীন করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে প্রায় আট বর্গমাইল আয়তনের একটি নগরীর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এখানে। প্রতœতাত্ত্বিক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ১৯৮৪ সালে তার বাংলাদেশের প্রতœসম্পদ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, মহাভারতে বর্ণিত মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজপ্রাসাদ ছিল এ অঞ্চলে। নৃত্যশীলা, কীচক স্থান, বুরুজ ইত্যাদি নামে অন্য ঢিবিগুলো পরিচিত। পান্ডবদের একটি দল অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন এখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। প্রমাণস্বরূপ একটি প্রাচীন বৃক্ষকে মহাভারতে বর্ণিত শমীবৃক্ষ ও একটি স্থানকে বিরাট রাজার গো-গৃহ বলে চিহ্নিত করা হয়। এ ঢিবিসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণার এখনো সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জরিপে বেশকিছু মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ এবং ইটের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল প্রতœতত্ত্ব বিভাগ, বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, খিরতলা গ্রামে পরিত্যক্ত উঁচু ঢিবি ও এর আশপাশের ধ্বংসস্তূপ আমরা এর আগে বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। সেখানে প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন থাকতে পারে। কিন্তু সরকারিভাবে সেটির সঠিক পরীক্ষা করা হয়নি। সঠিকভাবে খনন করে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিদর্শনগুলোর বয়স নির্ধারণ করা যেতে পারে। খিরতলা গ্রামে পরিত্যক্ত উঁচু ঢিবিতে মন্দিরের নিদর্শন মিললেও সেটা ঠিক কত বছরের, তার পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

 

"