ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরকীয়ার জেরেই খুন জুয়েল

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের চাপরতলা গ্রামের জুয়েল মিয়া (২৬) হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরকীয়ার জেরেই তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপাপ্ত পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। গতকাল বুধবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি। হত্যাকা-ের পুরো তদন্ত কাজ তদারিক করেন তিনি। হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী হারুন মিয়া (৩০) ও তার স্ত্রী আসমা খাতুনকে (২৪) গেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের চাপরতলা গ্রামের মৃত আলতাব আলীর ছেলে হারুন মিয়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিভিন্ন কসমেটিকস ফেরি করে বিক্রি করেন। বাড়িতে হারুনের স্ত্রী আসমা একাই থাকতেন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আসমার সঙ্গে ডেকোরেটরস কর্মী জুয়েল মিয়ার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তিনি জানান, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জুয়েল ও আসমা একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে হারুন তাদের দুজনকে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এ কারণে গত ১৫/২০ দিন আগে রাগের মাথায় আসমার মাথার চুলও কেটে দেন হারুন। সেই থেকে জুয়েলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হারুন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ মার্চ রাতে আসমার মাধ্যমে ফোন করে জুয়েলকে বাড়িতে ডেকে আনেন হারুন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আসমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হওয়ার ১ মিনিটের মাথায় হারুন লাঠি দিয়ে জুয়েলকে আঘাত করে। পরে হারুনের ছোট বাচ্চার শার্ট দিয়ে জুয়েলের পা এবং আসমার গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো হয়। এর পর হত্যাকা-ে অংশ নেয়া বাকিরা ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে মুখম-লসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতে করে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ একটি ডোবায় ফেলে দেয়।

তিনি আরো জানান, হত্যাকা-ের পর হারুন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চলে যান। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৯ মার্চ জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহত জুয়েলের চাচা আবদুল হকের করা মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে। গত ৮ এপ্রিল ভোরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী হারুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্য মতে, ৯ এপ্রিল সকালে চাপরতলা গ্রাম থেকে আসমাকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে হত্যকা-ের ঘটনায় জড়িত আরো পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান আলমগীর হোসেন।

গত ১৯ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় চাপরতলা গ্রামের খন্দকারবাড়ী সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে নাসিরনগর থানা পুলিশ। জুয়েল চারপতলা গ্রামের মৃত আনব আলীর ছেলে।

 

"