কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল আসছে নভেম্বরে

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধূলিধূসর এই শহরে মাটির নিচ থেকে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে এক একটি কলাম। আর সে কলামগুলোর ওপর বসে যাচ্ছে এক একটি স্প্যান। তাকালেই মনে হবে স্প্যানগুলো নীল আকাশের সঙ্গে মিশে আছে নৌকার মতো। এর ওপর দিয়েই ইলেকট্রিক দাঁড় টেনে চলে যাবে মেট্রোরেল।

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে রাজধানীতে যেসব বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মেগা প্রজেক্ট হলো মেট্রোরেল। আর এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে ইতিহাসে। এ শুধু সোনালি স্বপ্নই নয়, বাস্তবে রূপ পেতে যাওয়া বিশাল প্রকল্প। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া মেট্রোরেলের কার্যক্রম বহুদূর এগিয়েছে। রাজধানীবাসীর চলাচলে স্বস্তি আর যানজট নিরসনে উপমহাদেশের অন্য দেশগুলোর সমতুল্য মঞ্চে দাঁড়ানোর সফল চেষ্টা হতে চলেছে এই মেট্রোরেল। এ দিকে নভেম্বরেই জাপান থেকে দেশের মাটিতে আসবে মেট্রোরেল। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং আগামী বছর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে বহুল কাক্সিক্ষত মেট্রোরেল।

রাজধানীকে আধুনিক সুবিধার আওতায় আনতে ২০ দশমিক ০১ কিলোমিটার পর্যন্ত মেট্রোরেল হবে। উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মিরপুর হয়ে ১০ নম্বর, কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, তালতলা হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত হবে প্রথম ধাপের মেট্রোরেল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এর কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আর দ্বিতীয় ধাপে কাজ শেষ হবে ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দেবে জাপানের সংস্থা জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগাবে সরকার।

মেট্রোরেলের স্টেশনে উন্নত বিশ্বের মতো আধুনিক সব ব্যবস্থা থাকবে। মেট্রোরেল চলার সময় শব্দ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রতি চার মিনিট পর পর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোরেল। ঘণ্টায় চলাচল করবে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী। প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের কম। এর প্রস্তাবিত ১৬টি স্টেশন হচ্ছে উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও হোটেল, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকা।

জানা গেছে, মেট্রোরেলে যাত্রীবহনের জন্য ইঞ্জিনসহ বগিগুলো তৈরি করা হচ্ছে জাপানে। যার কাজ একেবারে শেষের পথে। মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে নিতে ০৮টি (পি-০৮) প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এই কাজে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন এসব তথ্য। মেট্রোরেলটি পুরোপুরি চালু হলে ২০২০ সাল থেকে প্রতিদিন ৪ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী, ২০২৬ সালে ৫ লাখ ৮৩ হাজার এবং ২০৫১ সালে ১৩ লাখ যাত্রী সেবার আওতায় আসবেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এ নির্মাণ কাজের কারণে ভোগান্তি যেন না বাড়ে সে লক্ষে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দিন কি রাত শুধু কাজ আর কাজ। প্রথম ধাপে এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে রেললাইনের তিন কিলোমিটার ভায়াডাক্ট। জোরেশোরেই চলছে মেট্রোরেলের দ্বিতীয় ধাপ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজও।

মেট্রোরেল প্রকল্পের কর্মীরা বলেন, কাজ ২৪ ঘণ্টা চলে। রাতে লাইট লাগিয়ে মেশিনের সাহায্যে সব কাজ করা হয়। গেল বছর আগস্ট থেকে শুরু হয় মেট্রোরেল প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ।

দ্বিতীয় ধাপের নির্মাণকাজ কতটা এগিয়েছে জানতে চাইলে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, সার্বিকভাবে ৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি এক বছর ৯ মাসের মধ্যে আমরা সম্পন্ন করতে পারব।

আগারগাঁও থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার লাইনে এখন চলছে পাইলিংয়ের কাজ। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রকল্প এলাকার মাটির তলদেশের ইউলিটি তার স্থানান্তর ও চেক বোরিং। এ এলাকার তিনটি স্টেশনসহ মতিঝিল পর্যন্ত সাতটি স্টেশনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ শেষে নির্মাণকাজও চলছে সমানতালে।

 

"