মনির হত্যাকাণ্ডে জড়িত তারই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ!

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ডেমরার মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মনির হোসেনকে (৮) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকা-ের সঙ্গে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল হাদী এবং তার দুই সহযোগী আকরাম হোসেন ও আহাম্মদ সফি ওরফে তোহা জড়িত। মনিরকে হত্যার পর হত্যাকারীরা তার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানে হত্যাকা-ের তিন দিনের মধ্যে শিক্ষার্থী মনির হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারী জোনের ডিসি মো. ফরিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ডেমরার ডগাইর নতুন পাড়ার মো. সাইদুল হকের বড় মেয়ে ফাতেমা আক্তার (১২), মেজো মেয়ে মুন্নি আক্তার (৯) ও ছোট ছেলে মো. মনির হোসেন (৮) নূর-ই মদিনা মাদরাসায় লেখাপড়া করত। গত ৭ এপ্রিল সকালে প্রতিদিনের মতো মাদরাসায় যায় মনির ও তার দুই ভাই-বোন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বেলা ১১টায় মাদরাসা ছুটির পর মনিরকে অপহরণ করে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীরা। অপহরণের পর মনিরকে পাশের নির্মাণাধীন মসজিদে নিয়ে যায় তারা। হত্যাকা-ে জড়িত আবদুল জলিল হাদী মসজিদের ইমাম। ওখানে নেওয়ার পর শিশু শিক্ষার্থী মনির কান্নাকাটি শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে একজন। তখন মনির আরো জোরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। এ সময় হাদী গামছা দিয়ে মনিরের চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। একসময় অপহরণকারীরা বুঝতে পারে মনির আর বেঁচে নেই। তখন তারা মনিরের হাত-পা বেঁধে লাশটি একটি সিমেন্টের বস্তায় ঢুকিয়ে সিঁড়ির পাশে রেখে দেয়।

ডিসি আরো জানান, মনির মারা গেছে জেনেও অপহরণকারী অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীরা তার বাবা সাইদুল হকের কাছে মুঠোফোনে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণকারীরা মসজিদের লাশ রাখার খাটিয়ায় মুক্তিপণের টাকা রেখে যেতে বলে। মনিরের বাবা এক লাখ টাকা জোগাড় করে অপহরণকারীদের নির্দেশ মতে মসজিতে নিয়ে আসে। মনিরকে ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় তিনি মুক্তিপণের টাকা মসজিদের ইমাম হাদীর কাছে রাখেন। রাতভর অপেক্ষা করেও মনির ফিরে না আসায় পরদিন সকালে তিনি টাকা নিয়ে চলে আসেন।

এদিকে পরদিন ৮ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে মসজিদের সিঁড়ির কাছ থেকে বস্তাবন্দি মনিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার সিঁড়ির মধ্যে বস্তাবন্দি মনিরের লাশটি রাখা ছিল। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ ও ছাত্র তোহাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে স্বীকার না করলেও গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মনিরকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে তারা। তাদের দেওয়া তথ্যে বংশালের মালিটোলা থেকে অপর আসামি আকরামকে গ্রেফতার করা হয়।

 

"