বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা প্রশংসনীয়

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ‘গ্রাম হবে শহর’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে গ্রাম আদালত কার্যকর করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতে সহজে সমস্যার সমাধান হয় এবং খরচও কম লাগে। তাই দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন টু বাংলাদেশের টিম লিডার অড্রে মেলট। আর স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. কাজী আনোয়ারুল হক। আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক সরদার এম আসাদুজ্জামান। কর্মশালায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি, ইউএনডিপির প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রকল্পভুক্ত জেলার সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকরা, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা সমন্বয়কারী, প্রকল্প অফিসের কর্মকর্তা, সহযোগী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন ছিলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের ৬৪ জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ হাজারের বেশি লোকের বসবাস। জনসংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি সমস্যাও বেশি। আর দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা জনগণের সংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত। এ শূন্যতা পূরণে গ্রামে ছোটোখাটো বিরোধগুলো মিটিয়ে ফেলতে গ্রাম আদালত কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষকে বঞ্চিত করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেজন্য গত নির্বাচনের আগেই বর্তমান সরকার তাদের ইশতেহারে শহরের বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১১২টি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সব ইউনিয়ন পরিষদ যথাযথভাবে তা দেওয়া সক্ষম নয়। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ২০ হাজার লোক বাস করে। তাদের যথাযথ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করতে পারলে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়বে। ফলে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি ২৭ জেলার ১২৮ উপজেলার ১ হাজার ৮০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

"