ভাগ্নেকে অপহরণ করে খালার মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে ভাগ্নেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন তারই আপন খালা মাকসুদা বেগম। অপহরণের ৬ ঘণ্টা পর খালা মাকসুদা বেগমের সহযোগিতায় রাখা গোপন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নীরবকে (৭)। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

অপহৃত নীরব মুন্সীগঞ্জের লৌহজং কামাল শেখের ছেলে। সে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চরচান্দ্রা গ্রামের নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। নীরবের বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব থাকেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ৪৩নং চরচান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নীরব। গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নীরবকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে খালা মাকসুদা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা খাতুনের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যায়।

স্কুল ছুটি হওয়ার পর নীরব বাড়িতে না যাওয়ায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। দুপুর ২টায় একটি নম্বর থেকে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এ ঘটনার পর বিকালে নীরবের মা বাদী হয়ে শিবচর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিবচর পৌরসভাধীন বাহেরচরে মাকসুদা বেগমের দূর-সম্পর্কের আত্মীয় শেফালীর বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। রাতেই খালা মাকসুদাকে পুলিশ আটক করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অপহরণের মূল ঘটনা।

অপহৃত নীরব জানায়, শিবচর পৌরসভার একটি বাসায় আমাকে রেখে খালা চলে যায়।

মাকসুদার সহযোগী শেফালী জানায়, মাকসুদা বেগম মঙ্গলবার দুপুরে নীরবকে ২ ঘণ্টার কথা বলে আমার কাছে রেখে যায়। আমি বুঝতে পারিনি যে, এই শিশুটিকে অপহরণ করে আমার কাছে রেখে গেছে।

অপহরণকারী মাকসুদা বেগম বলেন, আমি এই অপহরণের বিষয় কিছুই জানি না। আমি আর আমার বোন (নীরবের মা) দুজনই ব্যাংকে আসছিলাম টাকা উত্তোলন করতে। আমি আমার ভাগ্নেকে অপহরণ করিনি।

শিবচর থানার ওসি জাকির হোসেন মোল্লা জানান, থানায় সাধারণ ডায়েরি হওয়ার পর পুলিশ বিকালেই অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিবচর পৌরসভাধীন বাহেরচর এলাকার শেফালীর বাসা থেকে অপহৃত শিশু নীরবকে আমরা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির মা ও খালা প্রবাসী স্বামীর পাঠানো ১০ লাখ টাকা লোপাট করার পাঁয়তারায় এ অপহরণ নাটকটি করেছে।

 

"