ঝুঁকি বাড়ছে ঢাকায়

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শব্দ, বায়ু ও বর্জ্য দূষণে নানা প্রাণঘাতী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে জড়িয়ে পড়ছে ঢাকাবাসী। এসব বিষয়ে সতর্কতার পরও বেশিরভাগই আইন ও নিয়ম না মানায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আর এর মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম গাড়িতে বা বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এদিকে, রাজধানীতে বিক্রি হওয়া জারের পানির ৯৬ শতাংশেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। পোলট্রি মুরগির মাংসে আগের মতোই আছে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ক্ষতিকর ধাতবের উপস্থিতি। লিপস্টিকের সঙ্গেও ক্ষতিকর কেমিক্যাল খেয়ে ফেলছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে কমপক্ষে সাতটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন রাজধানীর মানুষ। এসব ঝুঁকির সবই কোনো না কোনোভাবে প্রাণহানির আশঙ্কা চিহ্নিত হয়েছে। আবার কোনো কোনোটিতে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা আহত না হলেও দীর্ঘমেয়াদি রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন রাজধানীবাসী। সাতটি বড় সমস্যার পেছনে কমপক্ষে ২১টি কারণ বা আইন না মানাকে দায়ী করা হয়েছে।

নানামুখী ঝুঁকির পরও নানা প্রয়োজনেই রাজধানীতে মানুষের ভিড় বাড়ে। এই সাত ধরনের ঝুঁকি কমাতে ১৮ দফা জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মানতে বাধ্য করতে হবে। বেশকিছু বিষয় আইন ও নিয়মনীতি পরিবর্তন, সংশোধন প্রয়োজন হবে। সরকারি মহলের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার সুপারিশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীবাসীর ঝুঁকি অনুসন্ধানে মোটা দাগে যে সাতটি বিষয় উঠে এসেছে তাতে অগ্নিকা- ও ভূমিকম্প রাজধানীবাসীর সবচেয়ে বড় আতঙ্কের। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা, বিকল্প পথ না থাকা এবং ভবন ভূমিকম্পসহনীয় না করায় এসব দুর্ঘটনায় অসহায়ের মতো মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই বাস করেন বেশিরভাগ রাজধানীবাসী।

এসব নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জারের পানির ২৫০ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে মাত্র ৪ শতাংশ পানি নিরাপদ পেয়েছে তারা।

পানি ও বোতলের মান দুটোতেই সমস্যা আছে বলে জানিয়েছেন কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক মনিরুল ইসলাম এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান।

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, ৩৫টি ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানিতে সমস্যা মেলেনি। তবে এসব বোতল দুইবারের বেশি ব্যবহার না করার পরামর্শ তাদের। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেসব কমদামি ফ্যান্সি পানির বোতল ব্যবহার করে তার বেশিরভাগই নিরাপদ নয়।

জারের পানির মতোই বিপদ সংকেত মিলেছে চিকেনে। কয়েক বছর আগে গবেষণায় দেখা যায়, পোলট্রি খামারে বেড়ে ওঠা মুরগির খাবারে থাকে ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ। এসব মুরগির অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু রোধে যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়, মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে তা রয়ে যায়। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না জানতে সাম্প্রতিক ফলোআপ গবেষণায়ও পাওয়া গেছে একই ধরনের ঝুঁকির তথ্য।

এসব দেখতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চালু হলেও জনবল মাত্র ১৬ জন। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪০০ ব্যক্তিকে কারাদ- দিলেও ২ কোটি রাজধানীবাসীসহ দেশবাসীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সহজ নয় বলে জানান মো. মাহফুজুর রহমান।

ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা রাইস বার্ন তেল বিরতি দিয়ে দিয়ে এবং কম দামের লিপস্টিক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শও তাদের। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজিতে।

 

"