শেরপুরে চরমপন্থিদের গুলি এএসআই আহত

জনমনে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়া শেরপুরে ভবানীপুর বাজারে গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে টহলরত পুলিশের ওপর চরমপন্থিদের হামলায় পুলিশের এক এএসআই নান্নু মিয়া (৪২) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ পাল্টাগুলি চালালে চরমপন্থিরা পালিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত এএসআই নান্নুকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে অপারেশন শেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে তারা সেখানে হাতে লেখা পোস্টার সেঁটে দেয়। এদিকে হঠাৎ করেই আবারও চরমপন্থিদের আনাগোনা ও উৎপাতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিন জানা যায়, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর বাজার এলাকায় তৎপরতা দেখা গেছে নিষিদ্ধ চরমপন্থি দলের সদস্যদের। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন থানা পুলিশের অভিযানে চরমপন্থিদের উৎপাত অনেকটা কমে গেলেও নতুন করে শুরু হয়েছে তৎপরতা। চরমপন্থি সদস্যের ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে হাতে লেখা পোস্টার সেঁটে দিয়েছে। সেখানে ‘দুনিয়ার সর্বহারা ও নিপীড়িত জনগণ এক হও’ এবং ‘৯ এপ্রিল পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তের ৬১৪ জন সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন’ সহ বিভিন্ন হাতে লেখা সেøাগানসহ পোস্টার ভবানীপুর বাজারের বিভিন্ন ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে দেয়। এ সময় শেরপুর থানা পুলিশের এএসআই নান্নু মিয়াসহ পুলিশের দুই কনস্টেবল ভাড়ায়চালিত সিএনজি অটোরিকশায় করে ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। টহল টিমের গাড়িটি ভবানীপুর মন্দির সড়ক দিয়ে বাজারের দিকে যাওয়ার সময় চরমপন্থিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে এএসআই নান্নু মিয়ার ডান পায়ের হাঁটুতে গুলি লেগে গুরুতর আহত হন এবং পুলিশও পাল্টা পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে খবর পেয়ে থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত এএসআই নান্নুকে উদ্ধার করে ওই রাতেই প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকায় পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি, উত্তরাঞ্চল শাখার ব্যানারে চরমপন্থিদের সাঁটানো হয়। সেখানে লেখা ছিল ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে ৬১৪ জন সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন, গণযুদ্ধের সমর্থনে সব শ্রেণি-পেশা ও নিপীড়িত জাতি-জনগণের সংগঠন গড়ে তুলুন।’ এ রকম আটটি দাবি সংবলিত পোস্টার বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটিয়ে দেয়।

চরমপন্থিদের ৬১৪ জন সদস্য ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার পাবনায় আত্মসমর্পণের কথা। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারের নৈশপ্রহরীদের সূত্রে জানতে পেরেছি, ২০ থেকে ২৫ জনের সশস্ত্র চরমপন্থিরা পুলিশের ওপর হামলা শেষে তারা পাকা সড়ক দিয়ে হেঁটে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্যে ঢুকে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবীর জানান, ঘটনার সময় চরমপন্থিদের লক্ষ্য করে পুলিশ পাল্টা পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল। তবে এসব গুলি চরমপন্থিদের কারো গায়ে লেগেছে কিনা তা জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ টিমের সিএনজি চালক ও অপর দুই পুলিশ সদস্য অক্ষত আছেন। গুলিবিদ্ধ এএসআই নান্নু মিয়া পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার কেদারপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

"