বগুড়ায় ডাক্তারের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু

হাসপাতাল ভাঙচুর

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে টনসিল অপারেশনকালে ছয় বছরের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকায় মালেকা নার্সিং হোমে এ ঘটনা ঘটে। শিশু হুমাইরা আকতার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা কায়েম গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদের মেয়ে। অপারেশনের বিল আদায় ও চার ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় চিকিৎসকরা মৃত শিশুকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের একটি হাসপাতালে রেফার করেন বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন ক্লিনিকে উপস্থিত হয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা কায়েম গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদের মেয়ে হুমাইরা আকতারের টনসিলে সমস্যা হলে গত দুদিন আগে বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকায় মালিকা নার্সিং হোমে আনা হয়। নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. সাইদুজ্জামান সোমবার বিকেল ৩টায় অপারেশনের সময় ধার্য করেন। অপারেশন ফি ধরা হয় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় হুমাইরাকে ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। বিকেল ৩টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিলে আধা ঘণ্টা পর ডা. সাইদুজ্জামান ভেতরে ঢোকেন। বিকেল ৪টায় চিকিৎসক বাইরে এসে জানান, অপারেশন সাকসেসফুল, রোগীকে বেডে দেওয়া হবে। এরপর নার্স ও বয়রা হুমাইরাকে বেডে দিয়ে যান। কিন্তু হুমাইরার পালস না থাকা ও শ্বাস-প্রশ্বাস না নেওয়ায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। তারা চিকিৎসক ও নার্সকে বিষয়টি জানালে তারা কর্ণপাত না করে জানান, রোগী ভালো আছে, শিগগিরই জ্ঞান ফিরবে। এর আগেই অপারেশন ফি আদায় করা হয়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জ্ঞান না ফেরায় চিকিৎসক জানান, রোগীর অবস্থা ভালো নয়; তাকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। এ বলে চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি রেফার করেন। শিশুকে সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার আগে স্বজনরা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রথমে বগুড়া শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও কোনো মন্তব্য করেননি। তারা শিশুটিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক ইঙ্গিতে বোঝান হুমাইরা মারা গেছে। এরপর বাবা হারুনার রশিদ, মা সাহেদা ও মামা আলমগীর শিশুর লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে মালেকা নার্সিং হোমে ফিরে আসেন।

এদিকে ভুল অপারেশনে শিশুমৃত্যুর খবর জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে সামান্য ভাঙচুর করেন। এ সময় চিকিৎসক, নার্স, ক্লিনিকের ম্যানেজার ও অন্যরা পালিয়ে যান। শিশুর মামা আলমগীর তালুকদার বলেন, ভুল অপারেশনের সময় তার ভাগনির মৃত্যু হলেও চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চার ঘণ্টা তাদের আটকে রাখেন।

রাত সাড়ে ১২টায় ওসি এস এম বদিউজ্জামান এবং ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া ক্লিনিকে ঢোকেন। এ সময় তারা পুরো ক্লিনিক খুঁজে শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসক রাফি হাসানকে পান।

ডা. রাফি জানান, এ ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম ও ম্যানেজার বেলাল হোসেন। তবে তিনি তাদের ফোন নম্বর জানেন না।

চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, রাত ১টার দিকে শিশুর মরদেহ থানায় আনা হয়। শিশুর পরিবার মামলা দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সামির হোসেন মিশু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"