পদ্মা সেতুর দশম স্প্যান বসছে আজ

দৃশ্যমান হচ্ছে দেড় কিলোমিটার

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতুর আরো একটি স্প্যান বসাসে আজ বুধবার। এটি হতে যাচ্ছে সেতু কাঠামোর ওপর বসানো দশম স্প্যান। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাঠামোয় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে যাবে। দশম স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর ১৩ ও ১৪ নম্বর খুঁটির ওপর। তবে এখন বেশ দ্রুতই এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর দৃশ্যমানতা। এর আগে সেতুর নবম স্প্যান বসে গত ২২ মার্চ। আর আজ দশম স্প্যান বসানোর মাত্র ১০ দিনের মাথায় ২০ এপ্রিল জাজিরায় ৩৪ ও ৩৩ নম্বর খুঁটির ওপর ১১তম স্প্যানটিও বসে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সেতুর মাওয়া এলাকায় স্প্যান ফেব্রিকেশন ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, দশম স্প্যান পদ্মার দিকে নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে ক্রেনে টেনে এটি নেওয়া শুরু হবে বুধবার সকালে এবং ওই দিনই এটি ১৩ ও ১৪ নম্বর খুঁটির ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ১০টি স্প্যান বসানোর পাশাপাশি সেতুর ২৪৭টি পাইল বসানোর কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ৪৭টি পাইলের মধ্যে ১৫টি পাইলেরও অর্ধেকাংশ বসানো হয়ে গেছে।

পদ্মা সেতুতে থাকেছে মোট ৪২টি পিয়ার বা খুঁটি। এর মধ্যে ২২টির নির্মাণ এখন পুরোপুরি শেষ। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি আরো ১০টি পিয়ারের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আরো দ্রুতগতিতে স্প্যান বসানো যাবে। প্রতি মাসে দুটি করে স্প্যান বসানো তখন সম্ভব হবে বলে জানালেন সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমবিইসি) সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মা সেতু গড়তে তাদের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করতে হয়েছে পদ্মার তলদেশে। তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্র্যের কারণে ১১টি পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। শুরুর দিকে মাওয়া অংশে কাজ বাদ দিয়ে জাজিরা চলে যেতে হয়েছে তাদের। তারপর বছরখানেক পর ফের পিয়ার ডিজাইন হাতে পাওয়ার পর মাওয়া অংশে কাজ শুরু হয়।

সেতুর মাওয়া অংশে ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারে পাইল গেঁথে দিয়ে গিয়ে দেখা যায় তলদেশে নরম মাটির স্তর বেশি। যে কারণে পিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। সেজন্য বিশেষ পদ্ধতিতে পাইল বানিয়ে তা পদ্মার গভীরে গেড়ে দিতে হয়েছে। সে কাজও এরই মধ্যে শেষ করেছেন সেতু নির্মাণে নিয়োজিতরা। মঙ্গলবার ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির পাইল বসানোর কাজ শেষ হয় বলে জানায় সেতু কর্তৃপক্ষ।

 

"