কুমিল্লা ইপিজেডে আগুন ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) গত সোমবার রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট একটানা ১০ চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকা-ে কয়েক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিণে সদর দক্ষিণে পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা ইপিজেডের আর এন স্পিনিং মিলসে সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় আগুন প্রথম দেখতে পায় কারখানার মেকানিক্যাল ফিটার মো. দিদার হোসেন। এ সময় তিনি বিপদ সংকেত সাইরেন বাজালে কারখানার কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা দ্রুত কারখানা থেকে বেড়িয়ে আসে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে কারখানায় থাকা তুলা ও সুতায়। এ সময় কারখানায় প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী কাজে ব্যস্ত ছিল। দিদার আরো বলেন, একটু দেরি হলেই শ্রমিকরা কারখানায় আগুনে অবরুদ্ধ হয়ে যেত। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটতে পারত। পরে পুরো কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে মহানগরী ও সদর দক্ষিণ থেকে আরো ৭টি ইউনিট একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। রাত ১২টার পর আগুনের লেলিহান শিখা বাড়তে থাকে। তখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মিলটির চারদিক থেকে একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সারা রাতই আগুন জ্বলতে থাকে। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাত সাড়ে ১০টায় শ্রমিক হতাহতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে কিছু শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় বেপজা ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তাদের শান্ত করে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাতেই বন্ধ করে দেয়া হয় কুমিল্লা ইপিজেডের সব কারখানার নাইট শিফটের কাজ। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তায় থাকে সব কারখানা। শ্রমিক বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুরো ইপিজেড এলাকা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার ফারুক আহাম্মাদ জানান, রাত প্রায় ৯.৩৫ মিনিটেই আমাদের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করে। অগ্নিকান্ডে আর এন স্পিনিং মিলস্রে বেশ কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ সম্ভব হয়নি। তবে কয়েক কোটি টাকার সুতা ও তুলা পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, আগুনের অবস্থা ভয়াবহ ছিল। কারণ গোডাউনে থাকা তুলা ও সুতায় আগুন লেগে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে পাশের কাদেনা গ্রুপের প্রশিক্ষিত ফায়ার ফাইটার তাদের অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। কাদেনা গ্রুপের সিনিয়র ডিরেক্টর মো. আবদুল মাজেদ জানান, তাদের রির্জাভ ওয়াটার ট্যাংকে থাকা ১০ লাখ লিটার পানির জোগান দেয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলন করে কুমিল্লা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানে ১২৯৬ জন শ্রমিক কাজ করেন। রাতে কারখানার প্রোডাকশন ফ্লোরে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। শ্রমিকরা কাজের শিফট বদলের সময় হওয়ায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান সিদ্দিককে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আগুনের সূত্রপাতের মূল কারণ এবং এ অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। আর এন স্পিনিং মিলের কর্মকর্তা সাজেদ আবদুল্লাহ কোয়েল জানান, অগ্নিকান্ডে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

"