উৎপাদন অব্যাহত রাখার দাবি

আশুগঞ্জ সার কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার দাবিতে কারখানার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার তারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় কারখানা থেকে কমান্ড এরিয়াভুক্ত ৭ জেলায় ১ ঘণ্টা সার সরবরাহ বন্ধ করা হয়। সমাবেশে আগামী ১১ এপ্রিল অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। সমাবেশে আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাঈফ উদ্দিন ফারুকী, সহ-সভাপতি হাজী মো. তৈমুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশ শেষে কারখানার প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কারখানার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘদিন কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। কারখানায় এলএনজি গ্যাস চালুর পর বর্তমানে কারখানায় গ্যাসের কোনো সংকট নেই। চলতি অর্থবছরে (জুন মাস পর্যন্ত) বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ কারখানাকে দেড় লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। এ পর্যন্ত কারখানায় উৎপাদন হয় ১ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া সার। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার বাকি রয়েছে আরো ৩৪ মেট্রিক টন। এমনি অবস্থায় আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে কারখানার কুলিং টাওয়ারসহ বিভিন্ন প্লান্টের যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য আড়াই মাসের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, এতে কারখানাকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার সুযোগ থাকলেও আড়াই মাস বন্ধের সিদ্ধান্তে চলতি অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। এই অর্থবছরেও লোকসানের মুখে পড়বে কারখানাটি। এতে করে লভ্যাংশ, বোনাসসহ আর্থিকভাবে শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে আগামী ১১ এপ্রিল অবস্থান কর্মসূচি থেকে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

আশুগঞ্জ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, কারখানার বিভিন্ন প্লান্টের ত্রুটি থাকায় জরুরি মেরামত না করলে কারখানার বিরাট ক্ষতি হবে। বিসিআইসির পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে মেরামত কাজ করা হবে। এরই মধ্যে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে বিসিআইসি সিদ্ধান্ত নেবে।

"