তিস্তা সংকট

পানি শূন্যতার আশঙ্কায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পাহাড়ি সুন্দরীকন্যা খ্যাত তিস্তা নদী। এই নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন হলো থেমে আছে। তবে গবেষকরা বলছেন, ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায় করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে পানি শূন্যতায় পড়বে বাংলাদেশ। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনের পথেই হাঁটার পরামর্শ তাদের। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা চুক্তিতে সাড়া না দিলেও তার সরকারেরই এক প্রভাবশালী মন্ত্রী জানিয়েছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তিস্তা সংকটের সমাধান সম্ভব।

বর্ষা মৌসুমে কানায় কানায় ভরে থাকে তিস্তার বুক। থৈ থৈ করে পানি। তখন বন্যায় ডুবতে হয় ভাটিতে থাকা বাংলাদেশ অংশে বসবাসকারী তিস্তাপাড়ের মানুষকে। অথচ শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় খাঁ-খাঁ করে তিস্তা।

গবেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে উজানেই অন্তত ৩০টি প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তার পানি আটকে দিচ্ছে ভারত। এছাড়া আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার এবং মালদহ জেলায়ও সেচের পানি সরবরাহ হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ পর্যন্ত পানি গড়াচ্ছে না।

এদিকে শুষ্ক মৌসুমে সংকট হলেও বর্ষায় তিস্তায় দুই কূল ছাপানো পানি থাকে জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনেই চুক্তি হওয়া উচিত দুই দেশের মধ্যে।

তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত যা আলোচনা হয়েছে তা রাজনৈতিক, এমন মন্তব্য করে ভারতের নদী গবেষক রাজ বসু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই দেশেরই তিস্তাপাড়ের মানুষকে নিয়েই চুক্তিতে বসতে হবে। কেবল ঢাকা-দিল্লি বা কলকাতায় বসে এ চুক্তি সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।

যদিও তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি জানান, হাসিনা-মমতার মধ্যে যে সম্পর্ক, তাতেই ফল মিলবে। ভারতের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে তিস্তাচুক্তি নিয়ে বসার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

"