ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : দেখার কেউ নেই

* ড্রেজারে বালু তোলায় বেকার হয়ে পড়েছেন ঘাটের শ্রমিকরা * প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি গৌরীপুর উপজেলার

ভাংনামারী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। এক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের অনন্তগঞ্জ ঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভেঙে পড়ছে নদের পাড়। এতে হুমকিতে পড়েছে নদের তীরবর্তী বাসিন্দারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। অপরদিকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বৈধ বালু শ্রমিকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ড্রেজারে উত্তোলন করা বালু স্বল্পমূল্যে বিক্রি করায় বালু শ্রমিকদের কাছ থেকে কেউ বালু কিনছে না। এতে অভাব-অনটনে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বালু শ্রমিকরা।

বালু শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে অবৈধভাবে নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। উল্টো ড্রেজার মালিক আমাদের হুমকি দিচ্ছে। সম্প্রতি ভাংনামারী ইউনিয়নের অনন্তগঞ্জ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সারিভাবে বাঁধা বালু তোলার নৌকা। কাজ না থাকায় নৌকার পাঠাতনে মুখ মলিন করে বসে আছেন বালু শ্রমিকরা। অপরদিকে ১০০ গজ দূরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই বালু পাইপ দিয়ে নদের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কারণে নদের পাড়ের মাটি ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয় বালু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুল ইসলাম বলেন, আমরা বালু শ্রমিকরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে নদ থেকে মাটি তুলি। এক নৌকা বালু ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করি। কিন্তু অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। এজন্য গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে বালু কিনতে চায় না। কিন্তু বালু বিক্রি করতে না পারলে আমরা পরিবার নিয়ে চলব কিভাবে?

ব্রহ্মপুত্র নদের বালু শ্রমিক এনামুল হক বলেন, শুধু অনন্তগঞ্জের পাশাপাশি চর নিলুক্ষীয়া এলাকায়ও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের হুমকি দেয়। প্রশাসন যদি অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের শত শত বালু শ্রমিককে না খেয়ে মরতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড্রেজার মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ড্রেজার ভাড়া দেই। উত্তোলনকৃত বালু আমি বিক্রি করি না। তবে মোটা বালু উত্তোলন করার কারণে স্থানীয় বালু শ্রমিকদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে। তাই আমি ড্রেজার বন্ধ করে দিয়েছি। বাড়িতে নিয়ে ফেলে রাখব। তবে এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি বালু উত্তোলনকারীর নাম বলতে চাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠাব।

"