রামমন্দির তালাক অনুপ্রবেশ বিজেপির সেই পুরোনো কাসুন্দি

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

২৩ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের জায়গায় পৌঁছাতে পারলে অযোধ্যায় রামমন্দির হবেই, আগেভাগেই এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখল নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। আবার ক্ষমতায় ফিরলে মুসলিম সমাজে তিন তালাক প্রথা বাতিল এবং কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করবে দলটি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব কথা বলছেন বিজেপি নেতারা। তবে কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, বিজেপি নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়ার জন্য সেই পুরোনো কাসুন্দি ঘাটছে।

আপাত দৃষ্টিতে, জাতীয়তাবাদ, হিন্দুত্ববাদ, উন্নয়নকে বিজেপির ইশতেহারের মূল মন্ত্র করা হয়েছে। বিজেপি ভোটে জিতলে এই তিন লক্ষ্যেই যে সরকার চলবে, সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লোকসভা ভোটের প্রথম দফা শুরুর ঠিক আগে বিজেপির ইশতেহারে প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয়তাবাদ বিজেপির অনুপ্রেরণা, সমাজের দুর্বল অংশের ক্ষমতায়ন বিজেপির লক্ষ্য এবং সুশাসন বিজেপির মন্ত্র। পাশাপাশি পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযান এ বারের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার। গত কয়েক মাস ধরে এই ইশতেহারে তৈরি করেছে রাজনাথের নেতৃত্বে একটি দল। তাদের দাবি, সারা দেশের কয়েক লাখ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের মনের কথা জানার চেষ্টা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মতো জানতে হয়েছে দেশবাসীর। তারপরই রাজনাথ সিংহ বলেছেন, ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব রাম মন্দির তৈরি করা হবে। অন্যদিকে, সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা নিয়ে বিজেপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতেই বিরোধিতায় সরব হয়েছেন জম্মু কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি। হুমকির সুরে জানিয়েছেন, ৩৭০ ধারা বাতিল করার চেষ্টা হলে তারা এর মোকাবিলা করবে। ফারুক আবদুল্লাহর কটাক্ষ, বিজেপির মতলব হলো বাইরে থেকে লোক আনিয়ে কাশ্মীরে বসিয়ে দেওয়া। এরপর নিজেদের জনসংখ্যা বাড়িয়ে কাশ্মীরের জনসংখ্যা কমিয়ে দেওয়া। কিন্তু এত সহজে কাশ্মীরিরা তা মেনে নেবে না। ফারুকের হুশিয়ারি, ৩৭০ ধারা কে কী করে বাতিল করে তারাও দেখবেন। কিছু দিন আগে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই দুটি ধারা বাতিলের পক্ষে সওয়াল করে ছিলেন। জানিয়েছিলেন, সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা জম্মু কাশ্মীরের আর্থিক বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ৩৫এ ধারার জন্য অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা কাশ্মীরে স্থাবর সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন না বা রাজ্যে অস্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন না। তারপরই মুখ খুলেছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই দুটি ধারা বাতিল করা হলে কাশ্মীর ভারতের থেকে আলাদা হয়ে যাবে। মুফতির যুক্তি, সংবিধান বলে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সেই মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হলে কাশ্মীরিদেরও ভাবতে হবে যে তারা শর্ত ছাড়া ভারতে থাকতে রাজি হবে কি না।

"