রাজধানীর ফুটপাত এখনো দখল

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

উচ্চ আদালতের আদেশের পরও দখলমুক্ত হচ্ছে না রাজধানীর ফুটপাতগুলো। ফুটপাতজুড়েই গিজগিজ করে দোকান আর ময়লার ডাস্টবিন। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বাড়ছে যানজট। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ফুটপাত ঢেলে সাজানোর পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

জনসংখ্যা বিস্ফোরণের এ নগরীতে দীর্ঘ যানজটে অতিষ্ঠ পথচারীর অন্যতম ভরসা ফুটপাত। কিন্তু দখল আর অ্যবস্থাপনায় বন্ধ মানুষের হাঁটার পথ। পথচারীরা বলছেন, ফুটপাতে হাঁটার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নামছেন। নগরীর ২১৮ কিলোমিটার ফুটপাতের মধ্যে ১০৮ দশমিক ৬০ কিলোমিটারই দখলে। এর মধ্যে ২০ ভাগ হকার, ২৫ ভাগ দোকান মালিক, আর ২ ভাগ রাজনৈতিক দলের অফিসের দখলে। পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনি ফুটপাতের ১২ শতাংশজুড়ে। সিটি করপোরেশনের বেশিরভাগ ডাস্টবিনও এই ফুটপাতেই।

পথচারীদের সহজ ও মুক্ত চলাচলে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুই বছর আগে হাইকোর্ট এমন রায় দিলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। আর যারা মামলা করছেন তারাও আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকরী করার কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

নগরবিদদের মতে, শুধু হকার সরিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়। দরকার সঠিক পরিকল্পনা। স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘অতিরিক্ত জায়গা বের হলে আমরা যদি হকারদের সঙ্গে একটি সহাবস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতাম তাহলে অন্যান্য দেশের মতো আমরাও পথচারীবান্ধব এবং হকার সমৃদ্ধ নগর তৈরি করতে পারতাম।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘যদি একটি স্থায়ী ইউনিট সংযুক্ত করা হতো তাহলে তাদের সাহায্যে আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারতাম। যারা দখলদার আছে তাদের উচ্ছেদ করতে পারতাম।’

 

"