শেকৃবিতে গবেষণার ফল

ইঁদুরের শরীরে কৃমি : মানুষের জন্য মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শেকৃবি প্রতিনিধি

দেশে এই প্রথম ইঁদুরের শরীরে গনজাইলোনেমা নামের এক প্রকার কৃমি পাওয়া গেছে। এই কৃমি মানুষের শরীরে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণাটি করেছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক।

জানা গেছে, ইঁদুরের মধ্যে মানুষের অন্তঃপরজীবী (কৃমি) গনজাইলোনেমা শনাক্ত করতে সফল হয়েছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের গবেষকরা। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. উদয় কুমার মহন্তর। মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অমৃত বর্মণ ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রভাষক এস এম আব্দুল্লাহ এক বছর ধরে এই গবেষণা চালিয়েছেন।

গবেষক দল ঢাকা শহরের বিভিন্ন ঘনবসতি এলাকা যেমনÑ তেজগাঁও, আগারগাঁও, তালতলা, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার, শেরেবাংলা নগর এসব জায়গার ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি, মুদির দোকান, শাকসবজির দোকান, বাসাবাড়ি থেকে ইঁদুর সংগ্রহ করে। এসব ইঁদুর মানুষের রোগ সৃষ্টি করেÑ এমন কৃমি বহন করে। গবেষক দল জানায়, এই কাজের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইঁদুরের মাধ্যমে যেসব অপরজীবী (কৃমি) মানুষে রোগ ছড়ায় সেগুলোকে অঙ্গ সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের বিস্তার নির্ণয় করা। এ কাজের জন্য তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ৭০টি ইঁদুর সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ২০টি ধাড়ি ইঁদুর, ১৫টি কালো ইঁদুর, ২৫টি বাদামি ইঁদুর এবং ১০টি নেংটি ইঁদুর ছিল। ওই ৭০টি ইঁদুরের মধ্যে ৫০টি (৭১.৪২ শতাংশ) ইঁদুর বিভিন্ন অপরজীবী (কৃমি) দ্বারা আক্রান্ত। বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা থেকে (৮৫ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি অপরজীবী (কৃমি) দ্বারা আক্রান্ত ইঁদুর পাওয়া গেছে। তারপর মুদির দোকান (৭৫ শতাংশ), বাসাবাড়ি (৬৬.৬৬ শতাংশ), ধানখেত (৫৩.৩৩ শতাংশ)। সংগৃহীত কৃমিগুলোর মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষকে সংক্রমণ করতে সক্ষম বলে জানান তারা। গনজাইলোনেমা কৃমি দেশে এই প্রথম শনাক্ত করা হয়েছে।

তারা আরো জানান, গনজাইলোনেমাসহ এসব কৃমি পাখাবিহীন মাছি জাতীয় কীট (ফ্লি), গুবরে পোকা, আরশোলা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষও সংক্রমিত হতে পারে। যার ফলে মানুষের লালা ক্ষরণ, দাঁতের ব্যথা, অন্ননালি প্রদাহ, গলাবিল প্রদাহ, গ্যাস্টিক আলসার, স্নায়ুবিক বৈকল্যের লক্ষণ দেখা দেয়। টেইনিয়া টেইনিফরমিস দ্বারা আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, খিচুনি, স্ট্রোক, স্থায়ী ব্রেইন ডেমেজ, মাংসপেশিতে ব্যথা, আচরণগত অসংগতি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। এসব রোগ প্রতিরোধে জনগণের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক অধ্যাপক উদয় কুমার মহন্ত পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত এবং সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে ইঁদুর দ্বারা আক্রান্ত রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের মধ্যে দুটি সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতা বাড়াতে যদি উদ্যোগ নেয় তা হলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেব।’

 

"