ওষুধ প্রতিরোধী ‘জটিল যক্ষ্মা’ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ওষুধ প্রতিরোধী জটিল যক্ষ্মায় আক্রান্তের ৮০ ভাগই রয়ে যাচ্ছে শনাক্তের বাইরে। অশনাক্ত রোগীরা প্রতি বছর অন্তত ১০ জনকে মৃত্যুঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়ায় তাদের দ্রুত শনাক্তের আহ্বান যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞদের। দীর্ঘ ১০ বছর এমডিআর ও এক্সডিআর টিবি নিয়ন্ত্রণে সরকার বৈদেশিক সাহায্য পেয়ে আসছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে অর্থায়ন বন্ধের আশঙ্কা সত্য হলে রোগী ও রাষ্ট্র চরম আর্থিক চাপে পড়বে বলে মত বিশ্লেষকদের।

প্রতিদিন ২২টি ওষুধ ও একটি ইনজেকশন পুশ করে দিন পার করতে হয় একজন যক্ষ্মা রোগীর। এমন অনেকেই আছেন যাদের শরীরে যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর চিকিৎসক ছয় মাসের ওষুধ দিলেও একটু ভালো বোধ করলে মাঝপথে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। কয়েক বছর পর আবার অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন তিনি এবার ওষুধ প্রতিরোধী জটিল যক্ষ্মায় আক্রান্ত। ছয় মাসের কোর্স শেষ না করলে, নিয়ম মেনে মানসম্পন্ন ওষুধ না খেলে সাময়িকভাবে সুস্থ হলেও জীবাণু আবার ফিরে আসে শরীরে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় এমন ওষুধ প্রতিরোধী বা এমডিআর যক্ষ্মার ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। আক্রান্তের স্বল্পসংখ্যক হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেও নানা কারণে সেবায় সন্তুষ্ট নন রোগীরা। তারা জানান, মিডিয়ার সামনে যেসব কর্মতৎপরতা দেখাচ্ছেন নার্সরা, সব সময় তেমন পাওয়া যায় না। এই ছোঁয়াচে রোগের ভয়ে রোগীর কাছে আসেন না তারা।

আরেকজন রোগী জানান, গরু-ছাগলকে যেভাবে ইনজেকশন দেন, তেমন করে ইনজেকশন দেন সেবিকারা। সেভাবে দিলে প্রচ- ব্যথা লাগে এবং রক্ত বের হয়। রাষ্ট্রের আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত টিবি রোগীদের শনাক্তের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাডভাইজার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, একজন এমডিআর টিবি রোগী যদি চিকিৎসার আওতায় না আসেন তাহলে প্রতি বছর তিনি কমপক্ষে ১০ জনকে নতুন করে এমডিআর টিবি রোগে আক্রান্ত করতে পারেন। এই নতুন রোগীরা যদি চিকিৎসার আওতায় না আসেন, তাহলে তাদের মৃত্যু অবধারিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, যদি কার্যকরভাবে মনিটর করা না হয় এবং এগুলোর ব্যর্থতার কারণে যদি এমডিআর টিবির হার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আরো ভয়াবহ যেটা, এক্সডিআর, সেটাও যদি হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশকে শুধু ব্যক্তি-পর্যায়ে নয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও বিপুল পরিমাণ আর্থিক চাপের মোকাবিলা করতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সব ধরনের টিবি শনাক্তে উপজেলা পর্যন্ত সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান বলেন, জিন এক্সপার্ট মেশিন, যেটা দিয়ে আমরা সাধারণত টিবিটা শনাক্ত করতে পারি, সেটা এখন ২০৬টা সেন্টারে দেওয়া হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে ৪৬০টা উপজেলাতেই এটা স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে।

২০১৭ সালের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরে নেওয়া হয় দেশে এমডিআর টিবি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। অথচ চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ৯২০ জন। শনাক্তের বাইরে থাকা আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে তারা চারপাশের মানুষকে বহু গুণে মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

 

"