সিলেট ওসমানী হাসপাতাল

রোগীরা দালালের খপ্পরে পদে পদে ভোগান্তি

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন কানাইঘাট উপজেলার বাতেন মিয়া। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ভবনের সামনে আসতেই তাকে ঘিরে ধরলেন দালাল চক্রের দুই সদস্য। সামনে এগোতেই চোখে পড়ল দালালচক্রের আরো কয়েকজন সদস্য এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছেন। রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসলেই তার সঙ্গে আসা আত্মীয়-স্বজনদের টার্গেট করে পিছু নেয় এসব দালাল। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা-তদবির তাদের। কেউবা আবার উন্নত চিকিৎসার নামে এসব রোগীর ক্লিনিকে যেতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। এ চিত্র সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। এ খানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েন দালালের খপ্পরে। এতে ভোগান্তি বাড়ে, হন ভুল চিকিৎসার শিকার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এই হাসপাতালে সিলেটর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসে হাজার হাজার মানুষ। হাসপাতালটির অভ্যন্তরে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসাধীন থাকেন ২ হাজারের অধিক রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন অন্তত আরো সাড়ে চার হাজার রোগী। কিন্তু চিকিৎসক ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা আর অনিয়মের কারণে পদে পদে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যরে কাছে অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ আছে, এসব দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন হাসপাতালে দায়িত্বরত কিছু অসাধু পুলিশ ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসমানী হাসপাতালকে ঘিরে এমন দেড় শতাধিক দালাল রয়েছে। এরা হাসপাতালের বারান্দায় ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ায়। এদের মধ্যে আমিনুল, সেলিম, হারুন, জাকির, নজীব, খায়রুল, বশর, রহিম, লাভলু ও অনিতা অন্যতম। এদের যোগসূত্র রয়েছে হাসপাতালের ঝাড়–দার, এমএলএসএস, মালি, সিকিউরিটি ও নার্সদের সঙ্গে। এতে দালালরা সহসাই রোগীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। এছাড়া ওয়ার্ডবয়কে টাকা দিলে মিলে ভালো আচরণ ও বেড। টাকা নেই তো ভালো আচরণও নেই, বেডও নেই। বেড থাকা সত্ত্বেও গরিব লোকদের থাকতে হয় ফ্লোরে। বিছানার চাদরও বদল হয় না এক সপ্তাহে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ১৭ জুন ৫০০ শয্যার ওসমানী হাসপাতালকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সে অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি অবকাঠামো সুবিধা। শুধু ৯০০ শয্যার পথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। লোকবল রয়ে গেছে ৫০০ শয্যারই। ১ হাজার ৯৮২ লোকবলের বিপরীতে আছেন ৯৩৬ জন। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন ১৭৭ চিকিৎসক। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার থেকে প্রতিদিন হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগের ৯০০ রোগীর খাবার ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এ ৯০০ রোগীর খাবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভাগ করে দিতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার রোগীকে। এছাড়া ৯০০ রোগীর ওষুধ দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগের ৬ হাজার ৭০০ থেকে ৭ হাজার রোগীকে।

এসব অনিয়ম নিয়ে জানতে চাইলে ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) এ কে মাহবুবুল হক প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, হাসপাতালে কোথাও কোনো অনিয়ম হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। সবাই সঠিক সেবা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারপরও কোথাও কোনো অনিয়ম হলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। দালালদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর দালালের দৌরাত্ম্য নেই। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হয়।

 

"