ঢাকা-ময়মনসিংহ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ

খুনের দায়ে ২০ জনের ফাঁসির দণ্ড

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

জায়গা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দোহারে কাপড় ব্যবসায়ীকে হত্যায় ১৫ জন, ময়মনসিংহে দুই সহোদর আবদুর রশিদ ও গিয়াস উদ্দিন হত্যায় চারজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

ঢাকা : রাজধানীর দোহারে কাপড় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১৫ জন এবং একই সঙ্গে আরো দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এ আদেশ দেন।

মৃত্যদ-প্রাপ্ত ১৫ জন হলেন সিরাজ ওরফে সেরু কারিগর, মিনহাজ ওরফে মিনু, খলিল কারিগর, শাহজাহান কারিগর, দিদার (পলাতক), এরশাদ (পলাতক), কালু ওরফে কুটি কারিগর, আজহার কারিগর, নিয়াজ উদ্দিন, মোজাম্মেল ওরফে সুজা, জলিল কারিগর (পলাতক), জালাল, বিল্লাল, ইব্রাহিম (পলাতক) ও আ. লতিফ। আদেশে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুজন হলেন মজিদল ওরফে মাজেদা ও চায়না বেগম। তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদেরও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অনাদায়ে আরো এক বছর কারাভোগ করতে হবে। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে ভিকটিমের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে দেওয়ানি ও ফৌজদারি একাধিক মামলাও চলছিল। এর মাঝে ২০০৮ সালের ৩ এপ্রিল সকালে বুড়িগঙ্গা ব্রিজের পাশে নারিশা পশ্চিমচর এলাকায় আসামিরা ভিকটিম নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় তার স্ত্রী সূর্যভান এগিয়ে এলে তাদের আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ওই দিনই (৩ এপ্রিল) দোহার থানায় নিহত নজরুলের মামা নাজিমুদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ওই বছরের ২৬ জুলাই ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৯ সালের ২৫ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এছাড়া মামলায় বিভিন্ন সময় মোট ১৪ জন সাক্ষী দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি কাজি সাহানারা বলেন, মামলার ভিকটিম নজরুল ইসলাম ফেরি করে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। জায়গা জমির বিরোধের জেরে তাকে (নজরুল ইসলাম) আসামিরা হত্যা করে। আদালত বিচার শেষে ১৫ জনের মৃত্যুদ- ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দুই সহোদর আবদুর রশিদ ও গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলায় তিনজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. এহসানুল হক এই আদেশ দেন। দ-প্রাপ্তরা হলেন উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে লিয়াকত আলী, লিয়াকত আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, জমির উদ্দিনের ছেলে আবুল কাসেম ও সিরাজ আলীর ছেলে হোসেন আলী।

আদালত সূত্র জানায়, জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে ২০০১ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে উপজেলার কোদালধর এলাকায় দা-বল্লমের আঘাতে আসামিরা প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের দুই ছেলে আবদুর রশিদ ও গিয়াস উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনার দুই দিন পর নিহত গিয়াস উদ্দিনের ভাই আবদুল খালেক বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এজাহারভুক্ত সব আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তি-তর্ক শেষে বিচারক বুধবার এ আদেশ দেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদ-, ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া চারজনের যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের পূর্বজগত গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে রবি ওরফে রবু। যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্তরা হলেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মঙ্গলতারা গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে মো. কাদের, একই এলাকার মো. মাজেদ আলীর ছেলে সামশুল, মৃত সবদর আলীর ছেলে সাম মোহাম্মদ ও মৃত আতাউরের ছেলে আপেল। এছাড়া এনামুল, আইনাল ও শরিফকে দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্বজগত গ্রামের শামসুদ্দিন টগরকে লাঠি ও হাঁসুয়া দিয়ে আসামিরা তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ২৩ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই দিন তার ভাই জমসেদ আলী বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে গোমস্তাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে একই বছরের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এসআই নূর মোহাম্মদ সরকার। সাক্ষ্য প্রমাণাদি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

"