চকবাজার ট্র্যাজেডি

সরকারি কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দুষছে সুজন

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। ওই অগ্নিকান্ডে ৭১ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাকান্ড’ হিসেবে

আখ্যায়িত করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সরকারের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এ হত্যাকান্ড। নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি না দাঁড়ায়, যদি কার্যকর না হয়, শক্তিশালী না হয় বা দায়িত্ব পালন না করে তাহলে রাষ্ট্র তো ভালোভাবে চলবে না। গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চকবাজার ট্র্যাজেডি ও ফলোআপ শীর্ষক’ গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন।

প্রাবন্ধিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে যোগ দেন এফবিসিসিআইয়ের রাসায়নিক ব্যবসাসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বেলায়াত হোসেন, স্থপতি ও পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

রাসায়নিকের গুদাম সরালেই পুরান ঢাকার নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে না বলে মতামত এসেছে এই বৈঠক থেকে। নগর পরিকল্পনায় গলদ, রাজউক ও সিটি করপোরেশনের গাফিলতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাবনাও এসেছে আলোচনা থেকে। একইসঙ্গে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সুপারিশ বাস্তবায়ন না করায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন বক্তারা। আলোচনায় মূল প্রবন্ধে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর চকবাজার ট্র্যাজেডির পর নাগরিক সমাজের করণীয় সম্পর্কে তিনি ১৩টি সুপারিশ তুলে ধরেন। রাজধানীর বাইরে রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর প্রক্রিয়া, পুনবার্সনের পর সেখানকার পরিবেশ ছাড়াও পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ ও রাসায়নিক গুদাম অপসারণে সরকারি টাস্কফোর্সকে সহায়তা করার মতো বিষয় রয়েছে তার সুপারিশে। এছাড়া নিমতলীর ঘটনার পর যে ১৭ দফা সুপারিশ এসেছিল, তার বাস্তবায়ন না করায় শিল্প মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিচার ও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

নিমতলী অগ্নিকান্ডের পর ১৭ দফা সুপারিশের একটিও বাস্তবায়ন হয়নি অভিযোগ এনে স্থপতি ও পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। কর্মকর্তাদের অবহেলাজনিত, অবজ্ঞাজনিত হত্যাকান্ডের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি। সরকার ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

পুরান ঢাকার ‘অবসবাসযোগ্য’ এলাকায় আরবান রিনিউয়াল প্ল্যানিং বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার অনুমোদন আইনটি নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন করতেও সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এফবিসিসিআইয়ের রাসায়নিক ব্যবসাসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বেলায়াত হোসেন জানান, সরকারের গড়িমসির কারণে রাজধানীর বাইরে রাসায়নিকের গুদাম সরানো যাচ্ছে না।

পুরান ঢাকায় নাগরিক সমস্যা শনাক্ত ও সমাধান করার জন্য রাজউক, সিটি করপোরেশন, পূর্ত মন্ত্রণালয়, বিস্ফোরক অধিদফতরসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো থেকে একজন করে কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিশেষ সেলটি গঠন করা হবে। তারা পুরান ঢাকায় একটি অফিস স্থাপন করে সেখানে কাজ করবেন। যতদিন অবধি সমস্যা শনাক্ত ও সমাধানের কাজ শেষ না হয়, ততদিন তারা সেখানে কাজ করবেন।

 

"