ধুনটে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার ধুনট সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মন্ডলের বিরুদ্ধে দলিল নিবন্ধনে (রেজিস্ট্রি) অবৈধভাবে ১২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মচারী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ অভিযোগ করেন। এ অভিযোগ তদন্ত করে দেখছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকায় চরপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগম উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে অফিস সহায়কের কাজ করেন। তার শ^শুর ইব্রাহীম শেখ ও শাশুড়ি হালিমা খাতুন ধুনট মৌজার চরপাড়া গ্রামের আকলিমাসহ আটজনের কাছ থেকে ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। ওই জমির খতিয়ান নম্বর ৮০৮৬ এবং দাগ নম্বর ৬৮৮৬। গত ১২ মার্চ ওই জমির দলিল নিবন্ধন করার জন্য গ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান মমতাজ বেগম। সরকারি বিধি মোতাবেক ওই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। সেই হিসাব অনুযায়ী দলিল লেখক জালাল উদ্দিন সোনালী ব্যাংক ধুনট শাখায় টাকা জমাদানের রসিদ দলিলের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করেন। সাব-রেজিস্ট্রার জমির কাগজপত্রে নানা ভুলভ্রান্তি রয়েছে বলে জানিয়ে দেন। পরে কৌশলে মমতাজ বেগমের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে দলিল নিবন্ধন করেন। এ ঘটনায় ১৩ মার্চ দুপুরের দিকে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মমতাজ বেগম অভিযোগ দিয়েছেন।

ধুনট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রথমে নিবন্ধন করে দিতে রাজি হননি। পরে আর্থিক সুবিধার ভিত্তিতে এটি নিবন্ধন হয়েছে।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মন্ডল বলেন, দলিল লেখক জালাল উদ্দিন অফিসের ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। এ বিষয় জেনে দলিল লেখকের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা ফেরত নিয়ে মমতাজ বেগমকে দেওয়া হয়েছে। এতে দলিল লেখক ক্ষুব্ধ হয়ে মমতাজ বেগমকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মমতাজ বেগমের অভিযোগটি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিনাত রেহানা বলেন, বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

"