খুলনায় বক্তারা

মানুষের বিলাসী জীবনই পরিবেশের সর্বনাশ

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়টি এখন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এর মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের মূল অনুঘটক। দিন দিন তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। পৃথিবী নিজে থেকে এটা করছে না, বরং মানুষই বিলাসী জীবনের জন্য নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে। এ সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পরিবেশবাদী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এনভায়রণমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বেডস) ও ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সহায়তায় অ্যাকশান এইডের অর্থায়নে খুলনা শহরে ১০০ জন শিক্ষার্থী গতকাল শুক্রবার শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় অংশ নেয়। এ সময় আলোচকরা এ কথা বলেন।

সভায় আলোচকরা বলেন, অতিরিক্ত শিল্পায়ন নির্ভরতার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত কার্বন ও অন্যান্য বায়ু উষ্ণতাকারী গ্যাস যেমন; নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন, সালফার ডাই অক্সাইড ইত্যাদি নির্গমন করছি। এসব গ্যাস সূর্যের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে কিছু উষ্ণ রশ্মিকে ধরে রেখে দিন দিন বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে। শুরু হয় বিপর্যয়। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যেই সুইডেনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ সর্বপ্রথম ২০১৮ সালে আগস্ট মাসের ২০ তারিখ সংসদ ভবনের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপক্ষে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে প্ল্যাকার্ডে ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ নামে স্লোগান লিখে বসে থাকেন এবং ঘোষণা দেন যে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ নির্বাচন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে যাবেন না। এর পর প্রভূত সাড়া মেলে সারা পৃথিবীর শিক্ষার্থীদের। এর পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতি শুক্রবার এই দিনটি পালন করে।

এদিন বেডস সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নেও একই দিবস পালন করে। দিবসটি পালন অনুষ্ঠানে ১৩৭ নং মুন্সীগঞ্জ দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০ শিক্ষার্থী দিনের কার্যক্রম সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ৯টায় শেষ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিপক্ষে নানাবিধ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও সেøাগান দেন। দিবসটি পালনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বেডসের সৌমিত্র চক্রবর্তী, মো. মেহদী হাসান, নুরুল আমিন অপু, এম এ খালেক ও হরিপদ মন্ডল। দিবসটির শেষাংশে শিক্ষার্থীরা সরকারের তথা সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান যেন কার্বনের পরিমাণ কমাতে সবাই উদ্যোগী হন।

 

"