তুরাগে ভবন নির্মাণকালে চাঁদা দাবি

সত্যতা পেয়েছে পুলিশ শিগগিরই প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তুরাগে সেলিম মোল্লা একটি ভবন নির্মাণকালে চাঁদাবাজদের হুমকি পেয়েছেন। তাদের দাবি করা চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় করা মামলার সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তুরাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর এ বিষয়ে জানান, বিষয়টি নিয়ে আরো তদন্ত হচ্ছে, শিগগির এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। এর বেশি কিছু এখন বলতে চাই না। জানা গেছে, ব্যবসায়ী সেলিম মোল্লা নিজ মালিকানাধীন জমিতে বাড়ির কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। স্থানীয় হাজি মনির এবং তার দলবল জমির মালিকের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল এবং টাকা দিতে অপারগ হলে জমিতে এলে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে পড়ে বিল্ডিং তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন সেলিম মোল্লা। এ নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রচার হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসামি এবং বাদীপক্ষের উভয়ই সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিধায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।

জমির মালিক রাজধানীর তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু পুলিশের নজরে ঘটনাটি আনার পরও তেমন কোনো প্রতিকার না পেয়ে ব্যবসায়ী সেলিম মোল্লা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ মামলার আসামিরা হলেন লিখন, টগর ও মো. মনির হোসেন।

থানার জিডি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তুরাগের নলভোগ এলাকার বাসিন্দা সেলিম গত ২০ জানুয়ারি তারিখে ২৯৩৯ ও ২৯৩৮নং খতিয়ানভুক্ত ৯৮৫ অজুতাংশ জমি সাফ কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। জমি কেনার পর ক্রেতার ভোগ দখলও প্রতিষ্ঠিত হয়। এমন অবস্থায় স্থানীয় মনির হাজি ও তার দুই ছেলে লিখন ও টগর বাদীকে জমিতে যেতে বারণ করে এবং ক্রয় করা জায়গায় বাড়িঘর করতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দুই মাস থেকে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু সেলিম মিয়া কোনো ধরনের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। পরে আসামিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে সেলিম মোল্লাকে মারধর করে এবং পকেটে ও ব্যাগে থাকা ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে এ মামলার আসামিরা বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

"