জাফলংয়ে বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র নারী শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত!

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

মিনহাজ মির্জা, গোয়াইনঘাট (সিলেট)

আম্বিয়া বেগম। বয়স ৫০-এর বেশি। তারপরও মনোযোগ দিয়ে আদর্শ লিপির বই পড়ছেন। তিনি একা নন, আছে তার মতো আরো শিক্ষার্থী। তাদের শিক্ষা দিচ্ছেন নাতির বয়সি শিক্ষকরা। এতে তারা লজ্জা পান না। তারা বুঝতে পেরেছেন। বিদ্যাশিক্ষা যেকোনো বয়সে করা যায়। আর এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এছাড়া এই বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র চালু করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা।

আর মাঝেমধ্যে সø্যাটে চক দিয়ে নিজের নাম লেখার চেষ্টা করছেন। শুধু আম্বিয়া বেগম নয়, তার মতো আরো ৪০ জন বয়স্ক নারী এখানে এসেছেন শিক্ষা লাভের আশায়। কেউ বই পড়ছেন কেউবা আবার তাদের নিজের নাম সø্যাটে লেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র নামক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

‘শিক্ষার কোনো শেষ নেই, লেখাপড়ার বয়স নেই।’ এমন নীতি মেনে চলে সিলেটের জাফলংয়ে গড়ে ওঠা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র নামক প্রতিষ্ঠান। গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি সপ্তাহে একবার স্বেচ্ছায় শিক্ষা শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এখানকার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী। গত বছর থেকে ৪০ জন বয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এতে সীমান্ত যুব সংঘ নামের একটি সামাজিক সংগঠন তাদের আদর্শ লিপির বইসহ যাবতীয় শিক্ষার খরচ বহন করছেন। তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এরই মধ্যে অনেক শিক্ষানুরাগীরাও এগিয়ে আসছেন। বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রটি অত্র এলাকার বয়স্ক নারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

শিক্ষাকেন্দ্রে পড়তে আসা সালমা বেগম নামের এক নারী বলেন, ছোট বেলায় ক্লাস টু পর্যন্ত পড়েছি। তারপর আর পড়তে পারিনি। নিজের নামও ঠিকমতো লিখতে পারতাম না। তবে এই বুড়ো বয়সে এসে এলাকার নাতিরা পড়াচ্ছে। এখন নিজের নাম লিখতে কোনো রকম সমস্যা হয় না। রাজিয়া নামের আরেক নারী জানান, লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই, আগে অনেক লজ্জা পেতাম। এখন ওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের বুঝিয়েছে। এখন বই পড়ে অনেক ভালো লাগছে। বই পড়া শিখতে কোনো লজ্জা লাগে না। গুচ্ছগ্রাম সীমান্ত যুব সংঘের সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, এখানকার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়ে আমরা এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। তারা সবাই উৎফুল্ল হয়ে দাদি সমতুল্যদের শিক্ষা দান দিয়ে আসছে। আমরা চাই আমাদের এ রকম মহৎ কাজ দেখে সবাই এগিয়ে আসুক।

 

"