বড় বিভ্রাটে ফেসবুক

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ফেসবুক তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়েছে। গত বুধবার বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়েবসাইটটির বেশকিছু প্রধান সেবা ব্যবহারে সমস্যায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। তবে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিভ্রাট অব্যাহত থাকার পর ধীরে ধীরে পূর্ণ কার্যকারিতা ফিরে পেতে শুরু করেছে সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি।

শেষবার ২০০৮ সালে ফেসবুকে এত বড় পরিসরে ব্যাঘাত ঘটেছিল ফেসবুকের কার্যক্রমে। তবে সে সময় প্রতি মাসে সাইট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি যে সংখ্যাটি বর্তমানে প্রায় ২৩০ কোটি। ফেসবুকের প্রধান পণ্যগুলো দুটি মেসেজিং অ্যাপ এবং ছবি শেয়ার করার মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই বিপর্যয়ে। তবে এই বিপর্যয়ের কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

ফেসবুক এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফেসবুকের অ্যাপগুলো ব্যবহারে কিছু গ্রাহক সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে আমরা অবগত হয়েছি। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে এর মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। গুজবের জবাব না দিলেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে এই বিপর্যয় ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস’ আক্রমণের কারণে হয়নি।

‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস’ এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি লক্ষ্যবস্তুতে (ওয়েবসাইট) একসঙ্গে অত্যাধিক পরিমাণ ট্র্যাফিক বা ব্যবহারকারী প্রবেশ করানো হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, বিপর্যয়টি শুরু হয় বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা থেকে। ফেসবুকের মূলপাতা লোড হলেও ব্যবহারকারীরা কোনো পোস্ট করতে পারছিলেন না বলে জানান। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা নিউজ ফিড রিফ্রেশ করা বা ছবি পোস্ট করার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হন।

ফেসবুক মেসেঞ্জারের ডেস্কটপ ভার্সন কাজ না করলেও মেসেঞ্জারের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিছু মেসেজ পাঠানো সম্ভব ছিল। তবে কিছু কন্টেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে বলা হচ্ছে। ফেসবুকের আরেকটি মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরাও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েন বলে জানা যায়। এর ফলে ‘ফেসবুক ওয়ার্কপ্লেস’ যেটি ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয় সেটির সেবাও বিঘিœত হয়েছে।

এই বিপর্যয়টি এমন সময় হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের আইনপ্রণেতারাই বিবেচনা করছেন যে ফেসবুকসহ অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা উচিত কি না। এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমের একটি জনপ্রিয় কৌতুকের মাধ্যমে প্রকাশ করে পোস্ট এবং শেয়ার করেছেন অনেকে। খবর : বিবিসি বাংলা অনলাইনের।

 

"