সলুক চাষে সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শেকৃবি সংবাদদাতা

উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন মসলা জাতীয় ফসল ডিল বা সলুক চাষে সম্ভাবনা দেখছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষকরা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএস শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। গবেষণার তত্ত্বাবধান করছেন শেকৃবি উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. সোলায়মান। হুমায়ুন কবির বলেন, উদ্ভিদটি আমাদের কাছে তেমন পরিচিত নয়। কিন্তু বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর কচিপাতা ও কান্ডের নির্যাস, বীজ নিঃসৃত তেল ভেষজ ও ইউনানি চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হয়। জিরার মতো সলুকের বীজও নানা সুস্বাদু ও সুগন্ধি খাবার তৈরিতে কাজে লাগে।

তাছাড়া এতে রিবোফ্লাবিন, নিয়াসিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, আলফা টোকফেরল ও কোয়ারসিটিন বিদ্যমান থাকায় ক্যানসার প্রতিরোধী, যা কোলেস্টেরলও কমায়। তাছাড়া পেটের পিড়া ও অনিদ্রার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলদায়ক, কচিপাতা ও কান্ড মাছ, মাংস রান্নায় এবং সালাদ স্যুপে ব্যবহার করা হয়।

এর উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠী একে জিরা বলে প্রচার করে প্রায় সময়ই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এমনকি এর ব্যবহার সম্পর্কেও অনেকে অজ্ঞ। আমাদের গবেষণা অনুযায়ী দেশে এর ফলন বেশ ভালো হবে। উচ্চ পুষ্টিগুণ ও বহুল ব্যবহারের জন্যই ডিল নিয়ে আমরা গবেষণা করছি। অধিকতর গবেষণার দাবি রাখে এটি।

গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ড. সোলায়মান বলেন, ডিল ও জিরা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল তা এই গবেষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। সেসঙ্গে এর উচ্চ পুষ্টি ও ভেষজগুণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হলে দেশে এর বাণিজ্যিক চাষাবাদও সম্ভব। তিনি আরো জানান, ডিলের উজ্জ্বল রঙের ফলের প্রতি উপকারী পোকা আকৃষ্ট হয় বলে একই সঙ্গে মধু চাষও সম্ভব। চলমান গবেষণায় আমরা এখন এর বীজের রাসায়নিক উপাদান নিয়ে বিশ্লেষণ করব, যা ডিল গবেষণায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 

"