খুলনায় মশার দাপটে অতিষ্ঠ নগরবাসী

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা

কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সেই কবে ব্যাঙ্গ করে লিখেছিলেন, ‘রেতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে কোলকাতায় আছি’। কিন্তু খুলনায় রাতে মশা, দিনেও মশা। মশার চরম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। কোথাও ১ মিনিটও নিরাপদে বসার উপায় নেই। আক্ষেপ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কথাগুলো বলছিলেন খুলনা মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মাসুদুল আলম।

তিনি বলেন, মশার উৎপাত এতটাই বেশি যে জানালা-দরজা খুলে রাখার উপায় নেই। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের তৎপরতায় খুশি নন তিনি। তার অভিযোগ, মশা যেভাবে বাড়ছে, সে ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কোনো তৎপরতা নেই।

বসুপাড়া বাঁশতলার বি কে ক্রস রোডের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী শেখ শিহাবুল আলম বলেন, মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দীর্ঘ দিন সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম এলাকায় না থাকায় দিন দিন মশা এতটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে যে, ঘরোয়াভাবে তাদের দমানোর কোনো ফর্মুলাই কাজে আসছে না। নগরবাসী অসহায়ের মতো মশাদের খাবারে পরিণত হচ্ছে।

নগরীর মুজগুন্নী আবাসিকে বসবাসরত শিক্ষার্থী শাহার বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যদি মশা নিধন না করে তাহলে বলে দিক-মশার ফুডভ্যালু কত? তাহলে আমারাই মশা খাব।’

ইসলামপুর রোডের ব্যবসায়ী শামীম জানান, এত মশা নগরীতে আগে কখনো দেখেননি। অ্যারোসল, ইলেকট্রিক ব্যাট, কয়েলেও এখন আর কাজ হচ্ছে না। মশা নিধনে এখন দরকার সিটি করপোরেশনের ফগার মেশিনের ধোঁয়া। তিনি বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে এত মশা যে দুপুরের পর থেকে ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। তাতেও ঠিকমতো মশা যায় না। আগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধনের ওষুধ ছড়ানো হতো। কিন্তু কয়েক মাস ধরে তা বন্ধ আছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরাও মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। ক্যাম্পাসের হলরুমসহ সর্বত্রই মশার উপদ্রব।

বিভিন্ন হলের আশপাশের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে সেখানে মশা জন্মাচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নালা ডোবাগুলো নোংরা পানি দ্বারা ভর্তি রয়েছে। সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে সেখানে মশা জন্ম নিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, এখন সিজন চেঞ্জ হচ্ছে বলে একটু মশা বাড়ছে। তবে আমরা মশা নিধনের জন্য লারবি সাইড, এডালটি সাইড আর লাইট ডিজেল অয়েল বা কালো তেল এই তিনটা এখন দেব। একটি শিডিউল তৈরি করছি। ত্রিমুখীভাবে মশা নিধনের জন্য এগুলো শিগগিরই প্রয়োগ করব। আমরা এক সপ্তাহে লারবি দেব। পরের সপ্তাহে ফগার এভাবে ত্রিমুখী দেব। সমস্যাটি আমরাও আমলে নিয়েছি। মশা এখন বাড়ছে। আমাদের ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে হবে। এটা আমরা আগামী সপ্তাহে আশা করি শুরু করব।

 

"